প্রধান খবর

হুজুররা হাসনাতের বেলায় চেতছে, বিএনপির বেলায় চুপ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক বিতর্কের জেরে বিএনপির নেতাদের বক্তব্যের সাথে আলেম-ওলামাদের মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়ার তুলনা টেনেছেন বিশিষ্ট বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেয়া এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি স্পষ্ট করেন যে, জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে একসাথে রাজপথে থাকা ও আন্তরিক সম্পর্কের কারণেই হাসনাতের অসাবধানী বক্তব্যে আলেম সমাজ ব্যথিত হয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে মাদানী উলেখ করেন, অনেকেই অভিযোগ তুলছেন যে আলেম সমাজ বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান কিংবা রুমিন ফারহানার আপত্তিকর বক্তব্যের বেলা নীরব থাকেন, কিন্তু হাসনাতের বেলা সোচ্চার হন। এমন অভিযোগের কড়া জবাবে তিনি প্রশ্ন তোলেন-বিগত আন্দোলনে রুমিন ফারহানা বা ফজলুর রহমানের ডাকে কোনো মাদ্রাসা শিক্ষার্থী রাজপথে নামেনি, বরং হাসনাত আবদুল্লাহর ফোন ও আহ্বানেই হাজার হাজার মাদ্রাসা ছাত্র শাহবাগে ছুটে গিয়েছিল। হাসনাতের সাথে নিজের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি ও পরবর্তীতে তার পারিবারিক মাহফিলে যোগ দেওয়ার কথাও স্মরণ করেন তিনি।

বিএনপির উক্ত নেতাদের কঠোর সমালোচনা করে মাদানী লেখেন, তারা ওইসব নেতাদের ‘বাইরের এজেন্ট’ এবং চিহ্নিত বলে মনে করেন; তাই তাদের আপত্তিকর কথার প্রতিবাদ করারও প্রয়োজন বোধ করেন না। তিনি আরও জানান, হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কিংবা নাহিদ ইসলামরা যখন কোনো মাদ্রাসা বা মসজিদে যান, শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের মানুষ মনে করে বুকে টেনে নেয়। তাই সেই ভালোবাসার জায়গা থেকে যখন পার্লামেন্টে না জেনে আলেমদের নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়, তখন কষ্ট হওয়াটাই স্বাভাবিক।

আলোচনার ইতি টেনে রফিকুল ইসলাম মাদানী মন্তব্য করেন যে, সাধারণ মানুষ বা ভিন্ন মতাদর্শের কারও স্পষ্ট শত্রুতা মেনে নেওয়া গেলেও, বিপ্লবের সহযোগীদের এমন আচরণকে আলেম সমাজ মোনাফেকি ও ‘বেঈমানী’ হিসেবে দেখে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *