সিলেটের গোলাপগঞ্জে টানা চার মাস ধরে এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগে একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেলে উপজেলার মছলম উদ্দিন একাডেমি চত্বরে স্থানীয় ক্রুদ্ধ জনতা অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক এনামুল ইসলামকে (৫৩) গণধোলাই দেওয়ার পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
গ্রেফতারকৃত এনামুল ইসলাম সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি বর্তমানে ওই একাডেমির প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে গোলাপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার বিবরণী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর ওই শিক্ষার্থীকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতন চালান অভিযুক্ত শিক্ষক। বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আটকে রাখে। ভুক্তভোগীর বাবা গণমাধ্যমকে জানান, বিগত চার মাস ধরে তার ছেলেকে এভাবে নির্যাতন করা হচ্ছিল। ঘটনাটি জানতে পেরে তিনি ছেলের সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সত্যতা পান। তিনি এই জঘন্য অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত, ছেলের কঠোর নিরাপত্তা ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
ঘটনাটি সম্পর্কে ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আব্দুল করিম কাশেমী জানান, খবর পেয়ে তারাও ভুক্তভোগীর সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছেন। তিনি অবিলম্বে দোষী ব্যক্তির যথাযথ বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
একই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম জানান, স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়া প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছবেদ আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ছাত্র নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থানীয়রা আটকে রেখেছিল। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

