নির্মাণশ্রমিকের আকর্ষনীয় কাজের লোভ দেখিয়ে ৮ লাখ ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছিল ঝিনাইদহের উদীয়মান তরুণ রাজন হোসেনকে (২২)। তবে উন্নত জীবন ও ভালো উপার্জনের স্বপ্নে বিভোর সেই তরুণকে রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়া হয় চরম ভয়াবহতার মুখোমুখি- রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সামনের সারির রণক্ষেত্রে (ফ্রন্টলাইন)।
যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর প্রথম দিনেই ইউক্রেনীয় বাহিনীর এক নৃশংস ড্রোন হামলার শিকার হন রাজন। হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয়ে তাঁর কোমরের নিচের অংশ পুরোপুরি অবশ হয়ে যায়। চারদিকে গোলাগুলি আর মৃত্যুর বিভীষিকার মাঝে বাঁচার আকুল তাগিদে হাড়কাঁপানো মাইনাস তাপমাত্রার বরফের মধ্যে বুকে ভর দিয়ে টানা চার দিন ধরে প্রায় চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন তিনি। অদম্য চেষ্টার পর শেষ পর্যন্ত এক রুশ সেনাক্যাম্পে পৌঁছাতে সক্ষম হন রাজন।
সেখানে পৌঁছানোর পর এক মানবিক চিকিৎসকের বিশেষ সহায়তায় বিষয়টি মস্কোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানানো হয়। পরবর্তীতে দূতাবাসের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ও দ্রুত পদক্ষেপে রাজনকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।
স্বপ্নের প্রবাস জীবন থেকে ফিরে এখন ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে এই তরুণকে। নির্মাণশ্রমিক হিসেবে গিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে দেশে ফেরা রাজন ও তাঁর পরিবার এখন দিশেহারা। নিজের জীবন ধ্বংসের জন্য দায়ী প্রতারক দালাল চক্রের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানিয়েছে রাজনের পরিবার।

