প্রধান খবর

‘দাদা, পানি দাও, আমি ঘটনা ঘটাই ফেলছি, আমি তো মার্ডার করছি’

“দাদা, পানি দাও, আমি ঘটনা ঘটাই ফেলছি, আমি তো মার্ডার করছি”-রংপুরের দখিগঞ্জ শ্মশানের কপাটে হাত দিয়ে এভাবেই নিজের নৃশংস অপরাধের কথা স্বীকার করে আকুলভাবে আশ্রয় চেয়েছিলেন চার খুনের প্রধান অভিযুক্ত মুগ্ধ দাস। তবে শ্মশানের ডোম বিদ্যুৎ মোহন্ত বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে দরজা না খুলে তাৎক্ষণিক পুলিশে খবর দিলে পুলিশ শ্মশান ঘেরাও করে তাকে গ্রেপ্তার করে।

ডোম বিদ্যুৎ মোহন্ত ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “ওইদিন মুগ্ধ তুঁতফার্ম এলাকা থেকে দৌড়ে এসে দরজায় ঠকঠক করছিল এবং  জল চাইছিল। বিপদ বুঝে আমি মূল গেট না খুলে কেবল জানালা খুলি। ইতোমধ্যে দেখি পুলিশ চলে এসেছে এবং চারদিক থেকে ঘেরাও করে তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।”

রংপুর মহানগরীর গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা এবং তাদের দুই সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত মুগ্ধ দাস ও তার অন্যতম সহযোগী সিদ্ধার্থকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে সিদ্ধার্থকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে অভিযান চালিয়ে শ্মশান এলাকা থেকে ধাওয়া দিয়ে মুগ্ধকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও বিজ্ঞ আদালতে আসামিরা যৌথভাবে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহত প্রীতিলতা ও তার মেয়েকে ধর্ষণের যে গুঞ্জন বা দাবি উঠেছিল, তা ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে খারিজ করে দিয়েছে ফরেনসিক বিভাগ। রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক বাবলু কুমার বিশ্বাস জানান, ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় কোনো ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি; নিহতদের মূলত নরম ও নমনীয় বস্তু দিয়ে শ্বাসরোধ করে এবং মাথায় ও বুকে ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করা হয়েছিল।

চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস এই চার খুনের মামলাটি অধিকতর সূক্ষ্ম তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জিনাত আলী জানান, সংগৃহীত বিভিন্ন আলামত ও তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং নেপথ্যে অন্য কারও প্ররোচনা আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ট্র্যাজেডির শিকার পরিবারটির স্মরণে রংপুর জিলা স্কুলে গভীর শোক সভা এবং নিহতের বাসভবনে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *