ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাত্র এক মাসের মাথায় ডুবে যাওয়া আলোচিত অস্ত্রবাহী জাহাজ ‘আলতালেনা’র ধ্বংসাবশেষ দীর্ঘ ৭৮ বছর পর উদ্ধার করা হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতেই ডুবে যাওয়া এই জাহাজটির ঘটনা দেশটির ইতিহাসে এক গভীর রাজনৈতিক ক্ষত হিসেবে পরিচিত, যার প্রতিক্রিয়া দেশটির রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আজও দৃশ্যমান।
ইসরায়েলের ঐতিহ্যবিষয়ক মন্ত্রী আমিহাই এলিয়াহু জানান, ভূমধ্যসাগরে ইসরায়েলের উপকূল থেকে পশ্চিমে ৫০৩ মিটার গভীরে প্রায় অক্ষত অবস্থায় জাহাজটির সন্ধান পাওয়া গেছে। ১৯৪৮ সালে ফ্রান্স থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র নিয়ে ইসরায়েলের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল আলতালেনা। অস্ত্রগুলো ছিল ‘ইরগুন’ নামের একটি ইহুদি জাতীয়তাবাদী সশস্ত্র সংগঠনের জন্য। তবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়নের নির্দেশে নতুন রাষ্ট্রে কোনো সমান্তরাল সশস্ত্র বাহিনী না রাখার নীতি থেকে জাহাজটিতে গুলি চালিয়ে তা ডুবিয়ে দেয় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। সেই সংঘাতের ঘটনায় ১৬ জন ইরগুন সদস্য এবং ৩ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হন।
পরবর্তীতে গৃহযুদ্ধ এড়াতে ইরগুনের নেতা মেনাখেম বেগিন তাঁর বাহিনীকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। এই ঐতিহাসিক ঘটনা ইসরায়েলি রাজনীতিকে দুটি স্পষ্ট ধারায় বিভক্ত করে দেয়—বেন-গুরিয়নের সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারা এবং বেগিনের ডানপন্থী জাতীয়তাবাদী ধারা। এই ঘটনার পথ ধরেই পরবর্তী সময়ে ১৯৭৭ সালে মেনাখেম বেগিনের নেতৃত্বে ইসরায়েলে ডানপন্থীদের রাজনৈতিক উত্থান ঘটে।
আলতালেনার ধ্বংসাবশেষ অনুসন্ধানে বহু বছর ধরে গোপনে ও প্রকাশ্যে নানা অভিযান পরিচালিত হয়ে আসছিল। অবশেষে অক্ষত অবস্থায় তা খুঁজে পাওয়া গেলেও উদ্ধারকৃত এই ঐতিহাসিক ধ্বংসাবশেষের ভবিষ্যৎ কী হবে কিংবা এটি প্রদর্শনের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।

