চালকদের অ্যাকাউন্ট মানবিক যাচাই ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করার অভিযোগে উবারকে প্রায় ১০০ কোটি ডলার জরিমানা করেছে নেদারল্যান্ডসের তথ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর তথ্য গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নেদারল্যান্ডসের তথ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উবারকে ৮২৫ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১১৮ বিলিয়ন টাকা এবং মার্কিন মুদ্রায় প্রায় ৯৬৪ মিলিয়ন ডলার।
কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত উবার সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন চালকের অ্যাকাউন্ট স্থগিত ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করেছে। এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অনেক ক্ষেত্রেই কোনো মানবকর্মী তা পর্যালোচনা করেননি।
এ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত ভুল হয়েছে কি না, তা যাচাই বা পুনর্বিবেচনার পর্যাপ্ত সুযোগ চালকদের দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে কর্তৃপক্ষ। স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার বিষয়টিও চালকদের যথাযথভাবে জানানো হয়নি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাধারণ ডেটা সুরক্ষা বিধিমালা বা জিডিপিআর অনুযায়ী, মানুষের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে এমন সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। উবারের সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম এসব বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না বলে জানিয়েছে নেদারল্যান্ডসের কর্তৃপক্ষ।
তবে জরিমানার সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয় উবার। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে। উবারের দাবি, অভিযোগের বিষয়গুলো কয়েক বছর আগের নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং সংশ্লিষ্ট নীতিগুলো ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, বর্তমানে চালকদের আয়-রোজগারে প্রভাব ফেলতে পারে এমন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মানবিক যাচাই, বিভিন্ন সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রাখা হয়েছে।
নেদারল্যান্ডসের তথ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে উবারকে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো জরিমানা করা হলো। এর আগে ২০২৪ সালে ইউরোপীয় চালকদের ব্যক্তিগত তথ্য যথাযথ সুরক্ষা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ২৯০ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করা হয়েছিল।

