পুরান ঢাকার ব্যস্ততম চকবাজার এলাকার ছোটকাটারার ইউসুফ খান প্লাজা মার্কেটে সংঘটিত ভয়াবহ আগুন দীর্ঘ প্রায় ১২ ঘণ্টার নিরলস চেষ্টার পর অবশেষে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে আগুন নেভাতে গিয়ে অতিরিক্ত ধোঁয়া ও ক্লান্তির কারণে অসুস্থ হয়ে পড়া চারজন ফায়ার ফাইটারকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে নিশ্চিত করা হয়, তবে সকাল ৭টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ঘটনাস্থলে ডাম্পিং ও পুরোপুরি নির্বাপণের কাজ অব্যাহত ছিল। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফায়ার ফাইটাররা হলেন-পলাশী ফায়ার স্টেশনের মো. জিল্লুর রহমান, একই স্টেশনের লিডার মো. নজরুল ইসলাম, সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. মারুফ এবং খিলগাঁও স্টেশনের লিডার মো. মাহাফুজুর হক মজুমদার।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তালহা বিন জসিম জানান, আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ ও যেকোনো ঝুঁকি এড়াতে এখনও ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে ইউসুফ খান প্লাজা মার্কেটে এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ১৫০ জন অভিজ্ঞ ফায়ারফাইটার প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে গণমাধ্যমকে জানান, পুরান ঢাকার ঐতিহ্যগত ও কাঠামোগত নানা জটিলতার কারণে আগুন নেভানোর কাজে চরম বাধার মুখে পড়তে হয়। এলাকার রাস্তা অত্যন্ত সরু হওয়ায় এবং ভবনের ভেতরে পর্যাপ্ত যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় বড় অগ্নিনির্বাপণ গাড়ি ও পানিবাহী যান সরাসরি ঘটনাস্থলে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ছিল। এছাড়া বহুতল ওই ভবনের বিভিন্ন গুদাম ও দোকানে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন খুব দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ বেগ পেতে হয়।
এদিকে আকস্মিক এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঠিক কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং মার্কেটের কতটি দোকান বা গুদাম সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও নির্বাপণ কাজ শেষ হওয়ার পরই ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যাবে বলে জানানো হয়েছে।

