এটিএম মেশিনে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ঢুকিয়ে প্রয়োজনীয় টাকা তোলার দৃশ্য সারা বিশ্বেই অত্যন্ত সাধারণ। তবে ভারতের ডিজিটাল উদ্ভাবনে এবার যুক্ত হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী এক প্রযুক্তি। সেখানে মেশিনে তথ্য বা বায়োমেট্রিক দিলে ব্যাংক নোটের পরিবর্তে ঝরে পড়ছে রেশন হিসেবে বরাদ্দকৃত চাল ও অন্যান্য খাদ্যশস্য। অভিনব ও প্রযুক্তিবান্ধব এই চাল বিতরণকারী মেশিনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘গ্রেইন এটিএম’ বা ‘অন্নপূর্ণি’।
প্রথমবারের মতো ২০২৪ সালে ভারতের ওডিশা রাজ্যে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টা চালু থাকা এই বিশেষ সেবাটি চালু হয়। মেশিনে প্রবেশ করানো রেশন কার্ডের বারকোড এবং সুবিধাভোগীর আঙুলের ছাপ যাচাইয়ের মাধ্যমেই নির্দিষ্ট পরিমাণ চাল কিংবা গম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বের হয়ে আসে। সম্পূর্ণ ডিজিটাল এই পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ ৫০ কেজি পর্যন্ত খাদ্যশস্য মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে নির্ভুলভাবে বিতরণ করতে পারে মেশিনটি।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তিটি ভারতে নতুন করে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের আগস্টে ছত্তিশগড়ের রায়পুরের বিরগাঁও এলাকাতেও আনুষ্ঠানিকভাবে চাল বিতরণের এই ২৪ ঘণ্টার ‘অন্নপূর্ণি গ্রেইন এটিএম’ সুবিধা উন্মোচন করা হয়। রেশন দোকানে চাল নেওয়ার প্রাচীন প্রথা ও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি দূর করতেই সরকারি এই আধুনিক প্রয়াস। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট তৈরি, ওজনে কারচুপি এবং মানবসৃষ্ট দুর্নীতি রোধ করতে এই স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
প্রযুক্তিভিত্তিক এই চাল বিতরণ ব্যবস্থাটি দেখে সাধারণ ব্যাংকের টাকা তোলার মেশিন মনে হলেও এটি মূলত সরকারি খাদ্য সুরক্ষার আওতায় পরিচালিত রেশন মেশিন। যেকোনো সময়ে সাধারণ মানুষের কাছে মানসম্মত খাদ্য সুনিশ্চিত করতে এই গ্রেইন এটিএম ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এটিএম থেকে টাকা নয়, বরঞ্চ চাল পাওয়ার তথ্যটি তাই পুরোপুরি সত্যি ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ।

