১৯৯০-এর দশকের ভয়াবহ বসনিয়া যুদ্ধে ৮ হাজারের বেশি বসনীয় মুসলিম হত্যায় দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী ও সাবেক সামরিক কমান্ডার রাৎকো ম্লাদিচকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মর্যাদায় দাফন করার ঘোষণা দিয়েছে সার্বিয়া। দেশটির বিচারমন্ত্রী নেনাদ ভুইচ জানান, ম্লাদিচ এক সময়ের জেনারেল হিসেবে যেসব রাষ্ট্রীয় প্রটোকল পাওয়ার যোগ্য, তার দাফনে সেই সকল নিয়ম অনুসরণ করা হবে। সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে জাতিসংঘের ট্রাইব্যুনাল হেফাজতে ৮৪ বছর বয়সে মারা যান এই কুখ্যাত সেনাপতি।
১৯৯৫ সালে সংঘটিত স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা ও সারায়েভো অবরুদ্ধ রাখার মতো ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধে মূল কারিগর ছিলেন ম্লাদিচ। স্রেব্রেনিৎসায় প্রায় ৮ হাজারেরও বেশি নিরপরাধ মুসলিম পুরুষ ও কিশোরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, যা আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ২০১১ সালে সার্বিয়ায় ধরা পড়ার আগে প্রায় ১৬ বছর পলাতক ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক আদালত তাকে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়, যা ২০২১ সালে চূড়ান্তভাবে বহাল রাখা হয়।
সার্বিয়ার বিচার বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ম্লাদিচের শেষকৃত্যের স্থান নির্ধারণ করবে তার পরিবার। বেলগ্রেডে সমাহিত তার প্রয়াত কন্যা আনার কবরের পাশেই তাকে দাফন করার ইচ্ছা প্রকাশ করে গিয়েছিলেন তিনি। সার্বিয়ার কট্টর জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলোর কাছে তিনি বীর হিসেবে গণ্য হলেও বসনিয়ার ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কাছে তিনি ইতিহাসের অন্যতম বর্বরোচিত গণহত্যার প্রতীক।
এদিকে, দণ্ডিত এই যুদ্ধাপরাধীকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানোর সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বজুড়ে। ইউরোপীয় কমিশন স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে যে, যুদ্ধাপরাধে দোষী ব্যক্তিদের মহিমান্বিত করা ইউরোপীয় মূল্যবোধের পুরোপুরি পরিপন্থী। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সার্বিয়া সরকারের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দেশটির ইউরোপীয় ইউনিয়নে (EU) যোগদানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।

