ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে চরমপন্থী সংগঠন ‘হিন্দু সুরক্ষা সমিতি’র (এইচএসএস) সভাপতি অভিজিৎ চন্দ্র দাস বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার চেষ্টা করছেন। সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও ‘প্রতিশোধ’ গ্রহণকে প্রধান লক্ষ্য ঘোষণা করে গত ১৬ আগস্ট কলকাতার যাদবপুরে এইচএসএস-এর ব্যানারে ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’ পালন করেন তিনি। উক্ত কর্মসূচি থেকে প্রকাশ্যে ‘জিহাদ-মুক্ত’ বাংলা গড়ার ডাক দেওয়ার পাশাপাশি উসকানিমূলক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
পরিকল্পিত এই ইভেন্টের প্রচারে গত ৩০ জুলাই নিজের ফেসবুক পেজে দাসের পোস্ট করা একটি গানে সরাসরি সংখ্যালঘুদের দেশ ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়। দাসের দাবি, ধর্মের ভিত্তিতে বঙ্গভঙ্গ হওয়ার কারণে ভারতে মুসলিমদের কোনো অধিকার নেই এবং সমস্ত জমির মালিক কেবল হিন্দুরা। সম্প্রতি যাদবপুরের সমাবেশে তাঁর বক্তব্যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সহিংসতার উসকানি ছিল। সমাবেশে আগত সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি মুসলিম সমাজকে বয়কট করা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার মতো উগ্র আহ্বান জানান, যা উপস্থিত জনতা স্লোগানের মাধ্যমে সমর্থন করে।
এছাড়া ঐতিহাসিক তথ্য বিকৃত করে ভারতের বঙ্গভঙ্গের জন্য ভ্লাদিমির লেনিনকে দায়ী করেন এই চরমপন্থী নেতা। কাছেই অবস্থিত লেনিনের একটি মূর্তি ভেঙে ফেলার জন্য তিনি উগ্র জনতাকে প্ররোচিত করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। যদিও ১৮৬০ সালের সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের অধীনে নিবন্ধিত এই সংগঠনটি নিজেদের অরাজনৈতিক বলে দাবি করে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়া এর কোনো স্থায়ী নথিভিত্তিক ভিত্তি নেই।
‘হিন্দু বঙ্গ’ এজেন্ডা বাস্তবায়নে সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন, হিন্দুধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা, মাদরাসা শিক্ষা বন্ধ এবং একাধিক বৈষম্যমূলক আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছে। এছাড়াও ‘ল্যান্ড জিহাদ’ পুনরুদ্ধারের নামে উগ্র পথ অবলম্বন ও নিষিদ্ধ পদযাত্রার আয়োজন করে চলেছে তারা। বিভিন্ন সময়ে শীর্ষ স্থানীয় কট্টরপন্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের চিহ্ন দেখা গেলেও, এসব উসকানিমূলক ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের বিষয়ে অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম অল্ট নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে দাসের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মেটার কাছে ইতিমধ্যে এই চরমপন্থী পেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: অল্ট নিউজ

