রাজধানীর ধানমন্ডিতে উদীয়মান চিকিৎসক নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িসহ চারজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তথ্যগত ভুলের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১৯ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এই মামলা প্রত্যাহারের আদেশ মঞ্জুর করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবু শাহিন মামলার সমাপ্তির এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুন একই আদালতে ধীপ্রার আত্মীয় পরিচয়ে মশিউর রহমান শাহ নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলায় ধীপ্রার স্বামী ডা. রহমত রশীদ, শ্বশুর বারডেম হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ, শাশুড়ি সিদ্দিকা সুলতানা এবং ব্যঙ্গাত্মক ওয়েবসাইট ‘ইয়ার্কি’র সম্পাদক শিমু নাসেরসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছিল। এতে অবহেলাজনিত মৃত্যু, মানসিক-শারীরিক নির্যাতন এবং ময়নাতদন্ত ছাড়া তড়িঘড়ি দাফন করে আলামত গোপনের অভিযোগ আনা হয়। দায়েরের পর আদালত সিআইডি পুলিশকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে গত ২৯ জুলাই বাদী মশিউর রহমান মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে আদালতে দরখাস্ত দাখিল করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবরটি দেখে নাগরিক দায়িত্ববোধ থেকে তিনি মামলাটি করেছিলেন। তবে গত ১৬ জুলাই ধীপ্রার বাবা আলাউদ্দিন আদালতে লাশ উত্তোলনের বিষয়ে অসম্মতি জানান। এরপর নিহতের বাবার সঙ্গে কথা বলে বাদী জানতে পারেন যে, প্রাথমিক তথ্যে বেশ কিছু ভুল ছিল। প্রকৃতপক্ষে ধীপ্রা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে (হার্ট অ্যাটাক) মারা গিয়েছিলেন। ফলে অনিচ্ছাকৃত ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দায়ের করা এই মামলাটি তিনি আর পরিচালনা করতে চান না।
উল্লেখ্য, পূর্বের আরজিতে অভিযোগ ছিল-সহপাঠী ডা. রহমত রশীদকে বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন ধীপ্রা। তিনি সন্তান জন্মদানের পর ‘পোস্ট-পার্টাম ডিপ্রেশন’, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। চিকিৎসার অবহেলা ও ঘরবন্দি করে রাখার মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনা হয়েছিল তৎকালীন মামলার এজাহারে। তবে শেষ পর্যন্ত বাদীপক্ষের ভুল স্বীকার ও আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটির আইনি প্রক্রিয়ার ইতি টানলেন।

