দীর্ঘ প্রায় তিন যুগ পর সরাসরি ভোটাভুটির মাধ্যমে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ। বহুল প্রতীক্ষিত ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় সংসদ সদস্যরা প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করবেন। জাতীয় সংসদে বিএনপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ শেষে সংসদ ভবনেই বেসরকারিভাবে ফল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। এরপর নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির নামে গেজেট প্রকাশ করা হবে। আগামীকাল বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করার কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্পিকার এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ সংসদ সদস্যরা ভোট দেবেন। তবে অসুস্থতার কারণে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ভোট দিতে পারবেন না বলে জানা গেছে। নির্বাচন সামনে রেখে গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দেশে সর্বশেষ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এরপর
অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে সাধারণত একক প্রার্থী থাকায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। এবার ১১ দলীয় ঐক্য প্রার্থী দেওয়ায় প্রায় ৩৫ বছর পর আবারও রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হচ্ছে।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে মোট ৩৪৯ জন সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। এর মধ্যে বিএনপির ২৪৭, জামায়াতের ৭৭, স্বতন্ত্র ৮, এনসিপির ৮ এবং অন্যান্য দলের ও জোটের সদস্য রয়েছেন।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ হারানোর বিধান রয়েছে।
সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণের শুরুতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতা ভোট দেবেন। এ ভোটগ্রহণ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

