ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে ভয়াবহ ও শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে ৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, উপদ্রুত অঞ্চলগুলোতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। রিখটার স্কেলে ৭.৭ মাত্রার এই তীব্র কম্পনে শত শত ঘরবাড়ি মুহূর্তে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার ভোরের দিকে মানুষ যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, ঠিক তখনই শক্তিশালী এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমির মাত্র ১৫ কিলোমিটার গভীরে এই ভূকম্পনের উৎপত্তিস্থল হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির তীব্রতা অনেক বেশি হয়েছে। ভয়াবহ এই কম্পনের পরপরই কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী পরাঘাত বা ‘আফটারশক’ অনুভূত হয়। ঘুমের ঘোরেই ঘরবাড়ি ও বহুতল ভবন ভেঙে পড়ে অধিকাংশ মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। কেবল মাঙ্গারাই জেলাতেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২৪ জন। একই সময়ে মৌমের বন্দরের ফেরি টার্মিনালটি ভেঙে পড়ে কয়েকজন যাত্রী সাগরে ছিটকে পড়েন।
ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনির পর পরই উপকূলীয় অঞ্চলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রশাসন দ্রুত সমুদ্র উপকূলে সুনামি সতর্কতা জারি করে। জলোচ্ছ্বাসের ভয়ে হাজার হাজার আতঙ্কিত মানুষ ঘরবাড়ি ও গৃহপালিত পশু ফেলে উঁচু পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, পরবর্তীতে বড় ধরনের কোনো জলোচ্ছ্বাস না আসায় কয়েক ঘণ্টা পর এই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেয় কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত দ্বীপটিতে দেড় শতাধিক বসতবাড়ির পাশাপাশি বহু বিদ্যালয়, চিকিৎসা কেন্দ্র ও উপাসনালয় ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্রমাগত আফটারশকের তীব্র ভয়ে হাজার হাজার গৃহহীন মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো ও উদ্ধার তৎপরতা দ্বিগুণ জোরদার করা হয়েছে।

