মাদারীপুর জেলার কালকিনি পৌর এলাকার গোপালপুর দারুসসুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসায় আকস্মিক এক ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মর্মান্তিক এই বিস্ফোরণে প্রতিষ্ঠানটির অন্তত পাঁচজন কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালের দিকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর চারপাশের পুরো এলাকা জুড়ে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে চরম শঙ্কা ও তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতক্ষ্যদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, শনিবার সকালে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান চলাকালে হঠাৎ মাদ্রাসার একদম লাগোয়া সংলগ্ন ইমন সরদার নামের এক অধিবাসীর বসতঘরের সামনের অংশে শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। স্প্লিন্টার ও ছররা গুলির আঘাতে ঘটনাস্থলেই অধ্যয়নরত শিশু শিক্ষার্থী আবিদা (৮), জান্নাত (৯), মিনহা (১০) ও মাইমুনা (৯)-সহ মোট পাঁচজন শিক্ষার্থী রক্তাক্ত অবস্থায় আহত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে মাদ্রাসার শিক্ষক ও স্থানবাসীরা উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন এবং আঘাতপ্রাপ্তদের উদ্ধার করে দ্রুত কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং মাদারীপুর জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে নিয়ে ভর্তি করেন।
ঘটনার মর্মান্তিক বিবরণ তুলে ধরে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সকালে স্বাভাবিক পাঠদানকালে হঠাৎ কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ক্লাসের খুব কাছেই বিকট শব্দে ভয়াবহ এক বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় চারপাশ বিষাক্ত ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় এবং চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫ জন শিক্ষার্থী সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আহত হয়েছে এবং ছোট ছোট বাচ্চারা ভীষণ মানসিক ভয় ও ভীতিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই কালকিনি থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি পুরো এলাকাটি পরিদর্শন করে। কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আলম এ বিষয়ে বিস্তারিত নিশ্চিত করে জানান, সংবাদের পরপরই পুলিশ দল সেখানে পৌঁছে সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনের পাশাপাশি স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিস্ফোরণটির পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত অসৎ উদ্দেশ্য ছিল কি না এবং এর সাথে কারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত, তা উন্মোচনে পুলিশ সর্বাত্মক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

