আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে গুরুত্বপূর্ণ সফরে ভারত যেতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নয়াদিল্লিতে এটিই হতে যাচ্ছে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর। ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির বরাতে জানা গেছে, সফরটি ঘিরে ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে ইতিমধ্যে জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই দুই দিনের দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে বৈঠক হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধি, ভৌগোলিক যোগাযোগ (ট্রানজিট), শক্তি ও জ্বালানি খাতের বিকাশ, দীর্ঘ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো স্থান পেতে পারে। তবে সফরের চূড়ান্ত তারিখ ও সময়সূচি এখনো দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে কিছুটা শিথিলতা ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে, ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ঢাকার অনুরোধকে কেন্দ্র করে কিছু নীতিগত মতপার্থক্য দেখা দেয়। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতের সাথে বাস্তবসম্মত ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার বার্তা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকসহ একাধিক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর জমা বরফ গলতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই শীর্ষ সফরে সম্পর্কের জটিল বিষয়গুলো, যেমন—শেখ হাসিনাকে ফেরত আনা এবং আগামী ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া ১৯৯৬ সালের ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সব অমীমাংসিত সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধান না হলেও মোদি-তারেক প্রথম মুখোমুখি বৈঠকটি দুই দেশের নতুন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

