প্রধান খবর

শরীয়তপুরে শিশুকে বলাৎকার: জামায়াত নেতার নেতৃত্বে ১ লাখ টাকায় রফা-দফা

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে বলাৎকারের মর্মান্তিক অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার পর আইনের আশ্রয় না নিয়ে স্থানীয় এক জামায়াত নেতাসহ মাতব্বরদের নেতৃত্বে বেআইনি সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে মাত্র এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়নগর ইউনিয়নের আয়তুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে শিশুটিকে শারীরিক নির্যাতন করেন ইলিয়াস খান নামের এক ব্যক্তি। পরবর্তীতে বিষয়টি জনসমক্ষে এলে অভিযুক্তকে রক্ষায় তৎপর হয়ে ওঠেন স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা মো. সেলিম ও মাতব্বর মান্নান শিকদার। তাঁরা ভুক্তভোগীর পরিবারকে আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।

সর্বশেষ স্থানীয় জয়নগর মোসলেম উদ্দিন খান ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক সালিশ বৈঠকে প্রভাবশালীরা এক লাখ টাকার বিনিময়ে মামলা না করার শর্তে ভুক্তভোগীর বাবার কাছ থেকে লিখিত সম্মতি আদায় করেন। ভুক্তভোগীর বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তিনি শুরুতে অর্থ বা আপসে রাজি না হয়ে আদালতের মাধ্যমে সঠিক বিচার চেয়েছিলেন। তবে স্থানীয় মাতব্বর ও আত্মীয়স্বজনের অব্যাহত চাপে শেষ পর্যন্ত কাগজে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য হয়েছেন।

শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধকে আদালতে না পাঠিয়ে স্থানীয়ভাবে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে আপস-মীমাংসা করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন সমাজ। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পরিবর্তে অর্থের বিনিময়ে বিচার বিক্রির এই চেষ্টাকে তারা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সামিল বলে মন্তব্য করেছেন।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে বিষয়টি জানার পরপরই তদন্তের জন্য সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অপরাধের সত্যতা মিললে অভিযুক্ত এবং বেআইনি সালিশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *