প্রধান খবর

জাপানে নজিরবিহীন ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসে ৫ জনের মৃত্যু

জাপানের পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক ও ‘নজিরবিহীন’ ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে। টানা বর্ষণ ও পাহাড় ধসের কারণে দেশটির সার্বিক সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। যোগাযোগের মাধ্যমগুলো অচল হয়ে পড়ায় রাজধানী টোকিওর কাছে অবস্থিত নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাতে প্রায় ছয় হাজার যাত্রী আটকা পড়ে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।

জাপানি আবহাওয়া কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টির কারণে পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে জরুরি ভূমিধসের সতর্কতা জারি করা হয়। বৃষ্টির দাপটে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আবহাওয়া দফতর থেকে প্রথমবারের মতো চিবা প্রিফেকচারের জন্য সর্বোচ্চ মাত্রার ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়। বৃষ্টির পানিতে চিবাসহ আশপাশের গ্রামীণ নিচু সড়কগুলো প্লাবিত হয় এবং বহু গাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় রাস্তায় আটকে থাকতে দেখা যায়।

যোগাযোগ ব্যবস্থার বিপর্যয়ের কারণে বিমানবন্দরে পৌঁছানো এবং সেখান থেকে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে নারিতা বিমানবন্দরে আটকা পরা হাজার হাজার দেশি-বিদেশি যাত্রীকে টার্মিনালের মেঝে ও বিভিন্ন স্থানে রাত কাটাতে হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ও স্বেচ্ছাসেবীদের পক্ষ থেকে দেওয়া স্লিপিং ব্যাগ ব্যবহার করে অনেককে মেঝেতেই ঘুমাতে দেখা যায়। এছাড়া চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে বিমানগুলোতে চেক-ইন করার জন্য দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়।

অনির্দিষ্টকালের বিলম্ব ও যাতায়াত ভোগান্তির কথা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক এক ব্রিটিশ যাত্রী জানান, বিমানবন্দরে পৌঁছাতেই তাঁকে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা ট্যাক্সিতে পার করতে হয়েছে। বর্তমানে ফ্লাইট ছাড়ার অপেক্ষায় স্লিপিং ব্যাগ নিয়ে কোনোমতে সময় কাটাচ্ছেন তিনি। জলবায়ুর চরম পরিবর্তনের মুখে টানা বর্ষণ সামাল দিতে এবং আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করে স্বাভাবিক পরিষেবা ফিরিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছে দেশটির জরুরি উদ্ধারকারী দল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *