প্রধান খবর

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন আটককেন্দ্রে আরও এক অভিবাসীর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের নিউয়ার্কে অবস্থিত ডিলানি হল অভিবাসন আটককেন্দ্রে আবারও এক অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মৃত ব্যক্তি সেন্ট্রাল আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালার নাগরিক। এই নিয়ে বিতর্কিত এই কেন্দ্রটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল তিনে। প্রশাসনিক নীতির ফাঁকফোকর এবং অনিয়মের অভিযোগের মাঝেই এ ঘটনা মার্কিন ইমিগ্রেশন নীতির ওপর নতুন করে সমালোচনার ঝড় তুলেছে।

কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) পরিচালিত আটককেন্দ্রে অবস্থানকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন হোসে চাখোন-রাখসোন নামের ওই ব্যক্তি। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানায়, সেখানে হঠাৎ শারীরিক জটিলতা ও খিঁচুনি শুরু হলে তাঁকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে হাইতির নাগরিক জিন উইলসন ব্রুটাস এবং চলতি মাসের শুরুতে এল সালভাদরের এডউইন লোপেজ-করনেহো নামের আরও দুই অভিবাসী একই কেন্দ্রে চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থায় প্রাণ হারান।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে আইসিই তাদের তথ্য প্রকাশ সংক্রান্ত নীতিতে পরিবর্তন আনে। আগে বাইডেন প্রশাসনের আমলে কোনো ব্যক্তিকে হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে মৃত্যু হলে তা নথিভুক্ত ও প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক ছিল। তবে নতুন নীতিতে সেই বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। চাখোন-রাখসোনের ক্ষেত্রেও গ্রেপ্তারের চার দিন পর তাঁকে কাগজে-কলমে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে তদন্ত এড়ানোর কৌশল হিসেবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাটি দায় এড়াচ্ছে বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রব মেনেনডেজ।

এদিকে ডিলানি হল আটককেন্দ্রটির সামগ্রিক পরিবেশ, নিম্নমানের পরিষেবা এবং বন্দিদের ওপর প্রহরীদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে একাধিক মানবাধিকার সংস্থা। অপর্যাপ্ত চিকিৎসা, নষ্ট খাবার এবং মানবেতর জীবনযাপনের অভিযোগ এনে সম্প্রতি অন্তত ৩০০ জন অভিবাসী সেখানে অনশন ও কর্মবিরতি পালন করেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, প্রশাসনিক কঠোরতার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইসিইর হেফাজতে অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা অভিবাসীদের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকারকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে।

আইসিই কর্তৃপক্ষ অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, তাদের হেফাজতে থাকা প্রতিটি ব্যক্তির যথাযথ চিকিৎসাসেবা ও দেখভাল নিশ্চিত করা হয়। তবে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা এবং তথ্য গোপন করার নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল ও স্থানীয় রাজনীতিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *