রাশিয়ার অনবরত ও তীব্র হতে থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে পশ্চিমাদের কাছে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়েছে ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা মোট প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার মাত্র ৫ শতাংশ পেলেই কিয়েভ আসন্ন শীতকাল পার করতে পারবে। আর যদি এই মজুতের ১০ শতাংশ ইউক্রেনকে দেয়া হয়, তবে রাশিয়ার উৎক্ষেপণ করা সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করবে তাঁর দেশ।
আন্তর্জাতিক এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, মস্কো এখন প্রতি মাসে আগের তুলনায় দ্বিগুণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরের ওপর হামলা চালাচ্ছে। বিপরীতে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ইউক্রেনের হাতে প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে প্রায় আড়াই গুণে নেমে এসেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট মজুতের মাত্র ১ শতাংশ সমপরিমাণ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র কিয়েভের কাছে রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচাতে ও সংকট মোকাবিলায় মিত্রদের দ্রুত এগিয়ে আসার আকুল আবেদন জানান তিনি।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আরও উল্লেখ করেন, ইউক্রেনের জন্য নতুন প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র জোগাড় করাই এখন তাঁর প্রতিদিনের সবচেয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কাজ। আন্তর্জাতিক মিত্রদের সাথে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ফোনালাপ, কৌশলগত বার্তা পাঠানো এবং সামরিক সমঝোতার মাধ্যমে অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তিনি। তবে নিরাপত্তার খাতিরে এসব কূটনৈতিক আলোচনার সব তথ্য প্রকাশ্যে আনা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্বজুড়ে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের এই মারাত্মক ঘাটতি তৈরির পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক উত্তেজনাকেও দায়ী করা হচ্ছে। ইরান থেকে আসা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রুখতে মার্কিন বাহিনী ও তাদের উপসাগরীয় মিত্ররা বিপুল পরিমাণে প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করায় বিশ্ববাজারে অস্ত্রের সংকট দেখা দিয়েছে, যার সরাসরি খেসারত দিতে হচ্ছে ইউক্রেনকে। এছাড়া ইউক্রেনকে নিজস্ব প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে অতীতে যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। প্রতিরক্ষা প্রস্তুতকারকদের প্রতিনিধিরা স্থানীয়ভাবে আলোচনা চালালেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
একই সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার সাথে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা ও ভবিষ্যৎ যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইউক্রেনের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন জেলেনস্কি। তিনি স্পষ্ট জানান, ক্রেমলিন প্রধান এখনই যুদ্ধ থামাতে চান না, তাই মস্কোকে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করতে ওয়াশিংটনের আরো কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। ইউক্রেনের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বিসর্জন দেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে তিনি বলেন, কেবল ভূখণ্ড হস্তান্তর বাস্তব সমাধান আনবে না। যুদ্ধবিরতি হলে রাশিয়া যে ভবিষ্যতে পুনরায় পূর্ণ শক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়বে না-এমন স্থায়ী ও কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন কিয়েভের প্রধান শর্ত।

