সঙ্গীত জগতে সাফল্য এবং শ্রোতাদের ভালোবাসার কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে না–এটিই আরও একবার প্রমাণ করল জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ইমরান মাহমুদুল ও সাবরিনা পড়শীর দ্বৈত গান ‘জনম জনম’। মুক্তির দীর্ঘ নয় বছর পর এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে জনপ্রিয় এই গানটি। ডিজিটাল ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবে গানটি ১০ কোটি বা ১০০ মিলিয়ন ভিউয়ের অনন্য রেকর্ড অতিক্রম করেছে।
২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয় ‘জনম জনম’। প্রকাশকাল বিবেচনা করলে সে সময় অডিও এবং ভিডিও প্ল্যাটফর্মে ইউটিউবের আধিপত্য আজকের মতো এতটা ছিল না। অডিও ক্যাসেট ও সিডির যুগ পেরিয়ে ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করলেও সময়ের পরিক্রমায় শ্রোতাদের পছন্দের তালিকায় গানটি এখনো শীর্ষে রয়ে গেছে। প্রযুক্তি ও যুগের পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে গানটি যে আজও নতুন–পুরোনো সব প্রজন্মের কাছে সমান সমাদৃত, এই অর্জন তারই এক বড় উদাহরণ।
শুক্রবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় নিজের এই বিশাল অর্জনের আনন্দের কথা ভক্তদের সাথে ভাগ করে নেন শিল্পী ইমরান মাহমুদুল। অত্যন্ত উচ্ছ্বাসের সাথে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর সঙ্গীত জীবনে পড়শীর সাথে এটিই ছিল প্রথম দ্বৈত গান। সময়ের ব্যবধানে এই দুই শিল্পী একসাথে বহু গান উপহার দিলেও, প্রথম কাজের এই ঐতিহাসিক সাফল্য তাঁদের হৃদয়ে আলাদা এক অনুভূতির সৃষ্টি করেছে। গানটি আজও কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছে দেখে তিনি ভীষণ আনন্দিত ও আপ্লুত।
‘জনম জনম’ গানটির লিরিক লিখেছেন খ্যাতিমান গীতিকার রবিউল ইসলাম জীবন। সুর ও সঙ্গীত পরিচালনায় ছিলেন ইমরান নিজেই। পড়শীর তৃতীয় একক অ্যালবামের অন্তর্ভুক্ত এই গানটি শুরু থেকেই ছিল শ্রোতাপ্রিয়তার শীর্ষে। ভিডিওটি পরিচালনা করেছিলেন রম্য খান। মাইলফলক স্পর্শ করার পর ইমরান তাঁর সহশিল্পী পড়শী, গীতিকার জীবন এবং পুরো নির্মাণ দলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
গানটির এই বিপুল সাফল্যের পর সামাজিক মাধ্যমে অনুরাগী ও ভক্তদের কাছ থেকেও আসছে ভালোবাসার বন্যা। অনেকে পুরোনো স্মৃতির রোমন্থন করে মন্তব্য করছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, শৈশবে বা কৈশোরে বোতামওয়ালা ফোনে শোনা গানটি আজও আগের মতোই তাঁদের মনে দারুণ ভালোলাগা তৈরি করে। কালের খেয়ায় গানটির আবেদন যে এতটুকু কমেনি, তা ভক্তদের উচ্ছ্বাস দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায়।

