তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও ময়মনসিংহ বিভাগে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকায় দিনে-রাতে দফায় দফায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। কোথাও কোথাও ১০ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তীব্র গরমে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি বেশি নাজুক বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অতিরিক্ত গরমে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ পাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় বাধ্যতামূলকভাবে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ময়মনসিংহ জোনে সন্ধ্যার সময় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে প্রায় ১ হাজার ৯১ থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট।
নেত্রকোনার পল্লী বিদ্যুৎ-অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও সংকট তীব্র। জেলার ১০ উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৫৯ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬৬ মেগাওয়াট। ফলে কোনো কোনো এলাকায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ এলেও কোথাও কোথাও নিম্ন ভোল্টেজের কারণে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
জামালপুরের বিভিন্ন উপজেলায়ও ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে পিডিবির আওতাধীন এলাকায় পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভালো হলেও সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিং বেড়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
শেরপুরের পাঁচ উপজেলাতেও দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও ভোগান্তিতে পড়ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সংরক্ষণযোগ্য খাদ্যসামগ্রীর ওপরও প্রভাব পড়ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের ঘাটতি ও স্থানীয় পর্যায়ের রক্ষণাবেক্ষণ কাজকে সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিলেও সাধারণ মানুষের দাবি, সাময়িক আশ্বাসের পরিবর্তে স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

