তীব্র তাপদাহে চরম ঝুঁকিতে শ্রমজীবী মানুষ : বছরে ক্ষতি ৭৭ হাজার কোটি টাকা

তীব্র গরম ও তৈরি হওয়া হিট স্ট্রেসের কারণে বাংলাদেশে অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের প্রতি বছর মজুরি বাবদ প্রায় ৭৭ হাজার কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১.৪ শতাংশের সমান। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে কর্মদিবস হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা বাবদ স্বাস্থ্যজনিত খরচে নিঃস্ব হচ্ছেন হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষ। সম্প্রতি প্রকাশিত এক যৌথ গবেষণায় আশঙ্কাজনক এই তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইআইইডি এবং বেসরকারি সংস্থা ‘ওকাপ’-এর ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল মেয়াদে পরিচালিত এই গবেষণায় ঢাকা শহরের নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিক, রিকশাচালক ও পোশাকশ্রমিকসহ ১৭৫টি পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। গবেষণায় দেখা যায়, খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমিকেরা তীব্র গরমের কারণে বছরে গড়ে ২৩.৭ কর্মদিবস এবং ছাদের নিচে কাজ করা পোশাকশ্রমিকেরা ১৩.৫ কর্মদিবস হারাচ্ছেন। ফলে তাদের বার্ষিক আয়ের যথাক্রমে ৮.৫ শতাংশ (প্রায় ১৯ হাজার টাকা) ও ৪.৫ শতাংশ (প্রায় ১২ হাজার টাকা) লোকসান হচ্ছে।

তাপপ্রবাহের কারণে সৃষ্ট আর্থিক সংকট দরিদ্র শ্রমজীবী পরিবারগুলোর দারিদ্র্যকে আরও গভীর করে তুলছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ২৩ শতাংশ উত্তরদাতা পানিশূন্যতাজনিত কিডনি সংক্রান্ত জটিলতার উপসর্গের কথা জানিয়েছেন। এছাড়াও অতিরিক্ত গরমে মানসিক চাপ দ্বিগুণ হওয়ার পাশাপাশি ঘুমহীনতা, উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও কাজে অতিরিক্ত ভুল হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ঢাকার মতো ব্যয়বহুল নগরীতে তাদের পারিবারিক গড় আয় যেখানে এমনিতেই জীবনযাত্রার চাহিদার চেয়ে ৩৪ থেকে ৪১ শতাংশ কম, সেখানে তাপজনিত হারানো আয় এই ব্যবধানকে আরও প্রকট করে তুলছে।

গবেষকরা সতর্ক করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া এই দাবদাহ কেবল শ্রমিকের দৈনিক আয়ই কমাচ্ছে না, বরং তাদের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য ও জীবিকাকে চূড়ান্ত হুমকির মুখে ফেলছে। দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশই এই অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত থাকায় জাতীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় অবিলম্বে তাপপ্রবাহ থেকে শ্রমিকদের সুরক্ষায় কার্যকর নীতি, সঠিক কর্মঘণ্টা নির্ধারণ ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *