প্রধান খবর

দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন: আলোচনায় সাতক্ষীরার তরুণ অরিন

নয়াদিল্লি থেকে প্রচারিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ বক্তা হিসেবে সাতক্ষীরার তরুণ আবু ওবাইদাহ অরিনের উপস্থিতি ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মনে অরিনের পরিচয় ও তাঁর অবস্থান নিয়ে নানা কৌতুহল তৈরি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত প্রায় ছয় মিনিটের একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, সংবাদ সম্মেলন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর অরিন ইংরেজিতে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বক্তব্যে তিনি শেখ হাসিনাকে ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী’ ও আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে অভিহিত করে বিগত সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। একই সাথে কোনো বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ বা দালিলিক তথ্য উপস্থাপন না করেই তিনি দাবি করেন যে, সুপরিকল্পিত চক্রান্তের মাধ্যমে তরুণ সমাজকে শেখ হাসিনার মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছিল।

বক্তব্য প্রদানকালে এই তরুণ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তীব্র সমালোচনা করেন এবং নিজ বক্তব্যের ইতি টানেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ ও দলীয় নানা স্লোগান দিয়ে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সাতক্ষীরায় তাঁর রাজনৈতিক যোগাযোগ ও পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে বিস্তর আলোচনা শুরু হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২৫ বছর বয়সী অরিন সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুর এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি প্রেস ব্যবসায়ীর জ্যেষ্ঠ সন্তান। তিনি ভারতের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন এবং তৎকালীন সরকার পতনের পর থেকে তাকে এলাকায় দেখা যায়নি। স্থানীয় রাজনীতিতে জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে তাঁর পরিবারের ঘনিষ্ঠতা ছাড়াও ভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতৃত্বের সাথে সুসম্পর্কের কথা উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, বহুল আলোচিত এই অনলাইন সভায় এই তরুণের অংশগ্রহণ ও বক্তব্যের বিষয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। জেলা পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে নানা মুখরোচক আলোচনার সৃষ্টি হলেও তরুণের পরিবারের কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *