দেশে মাদকের বিস্তার রোধ এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। নতুন এ পরিকল্পনায় অভিযাননির্ভর কার্যক্রমের পাশাপাশি সচেতনতা, প্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য, সীমান্ত নজরদারি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সামাজিক সম্পৃক্ততার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে জাতীয় গাইডলাইন প্রণয়ন, দুই হাজার মেন্টর তৈরি এবং ২০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় ১০০টি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন, সারা দেশে ৩৫ হাজার অভিযান এবং ৬০ দিনের বিশেষ অভিযানের পরিকল্পনাও রয়েছে।
অভিযানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ৩০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা সংগ্রহ, আন্তর্জাতিক মানের ন্যাশনাল টার্গেটিং সেন্টার (এনটিসি) প্রতিষ্ঠা, মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্যভান্ডার হালনাগাদ এবং মানি লন্ডারিং বিষয়ে কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভাগীয় পর্যায়ে ধাপে ধাপে ডোপ টেস্ট কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল আইন প্রয়োগ নয়; প্রতিরোধমূলক শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ নিশ্চিত করা গেলে মাদক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। এদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১২০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে মাদক সিন্ডিকেটের অর্থায়ন ও নেটওয়ার্ক ভেঙে একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।

