ঢাকার যানজট এখন আর শুধু সড়ক ব্যবস্থাপনার সমস্যা নয়, এটি একটি সামগ্রিক নগর ব্যবস্থাপনার সংকট। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল গণপরিবহণ ব্যবস্থা, সড়ক ও ফুটপাত দখল, অবৈধ পার্কিং, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার যানজটের জন্য কোনো একক পক্ষকে দায়ী করা যায় না। রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার দুর্বলতা, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা এবং নাগরিকদের অসচেতন আচরণ—সবকিছু মিলেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন বিপুল কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, বাড়ছে জ্বালানি ব্যয় ও মানুষের মানসিক চাপ।
রাজধানীর সড়কে বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, পণ্যবাহী যান এবং পথচারীদের চলাচলের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না থাকায় যানজট বাড়ছে। রিকশা ও ব্যাটারিচালিত যান নিয়ন্ত্রণে শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, প্রয়োজন নিবন্ধন, নির্দিষ্ট রুট, চালকের প্রশিক্ষণ ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা।
ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অস্থায়ী বাজার, ফুড কার্ট ও ভ্যানের ব্যবসাও যানজটের অন্যতম কারণ। তবে এসব মানুষের জীবিকার বিষয় হওয়ায় উচ্ছেদের পাশাপাশি নির্দিষ্ট ফুড জোন, হকার মার্কেট ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসার ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সড়ক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে এআইভিত্তিক ট্রাফিক ক্যামেরা, স্মার্ট সিগন্যাল ব্যবস্থা এবং তথ্যনির্ভর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রযুক্তির পাশাপাশি গণপরিবহণ সংস্কার, অবৈধ দখল নিয়ন্ত্রণ এবং আইন প্রয়োগে সমতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যানজট কমাতে সরকার, সিটি করপোরেশন, প্রশাসন, পরিবহণ খাত এবং সাধারণ নাগরিক সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একটি পরিকল্পিত, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত নগর ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।

