শেখ হাসিনার দেশে ফেরা ও জামায়াত প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানালেন তসলিমা নাসরিন

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য স্বদেশে প্রত্যাবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় গণমাধ্যমে জোর আলোচনার মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন নির্বাসিত বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। রোববার (২ আগস্ট) ভারতের কলকাতায় গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চাইলেও তার ফেরা আদৌ বাস্তবসম্মত কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

আলাপকালে তসলিমা নাসরিন বলেন, “শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চান। কিন্তু তার পক্ষে ফেরা সম্ভব হবে কি না, তা আমি জানি না। তবে আমি চাই তিনি ফিরুক এবং দেশে যেন সুস্থ গণতন্ত্র বজায় থাকে।”

নিজের মাতৃভূমিতে ফেরার আকুতি ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, “আমাকে কোনো সরকারই দেশে ফিরতে দেয়নি। শেখ হাসিনাও দেননি, খালেদা জিয়াও দেননি; এমনকি পরবর্তী শাসকগোষ্ঠীও নয়। শেখ হাসিনার হয়তো একসময় দেশে ফেরার সুযোগ তৈরি হতে পারে, কিন্তু আমার জন্য সেই পথ চিরতরে বন্ধ।”

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শক্ত অবস্থান নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন এই লেখিকা। তিনি বলেন, “আমরা কখনো জামায়াতে ইসলামীকে মূল বিরোধী দল হিসেবে দেখিনি, কিন্তু এখন সেই পরিস্থিতিই দৃশ্যমান। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ থাকলে দেশের জন্য ভালো হতো। কিন্তু দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকায় জামায়াত সেই শূন্যস্থান দখল করেছে, যা কখনোই দেশের জন্য ভালো লক্ষণ নয়।”

জামায়াতের নীতি ও ভাবাদর্শের তীব্র সমালোচনা করে তসলিমা দাবি করেন, দলটি নারী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকারের পরিপন্থী এবং আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বিরোধী। তারা সমাজকে সপ্তম শতাব্দীর শরিয়া আইনের কাঠামোর দিকে ঠেলে দিতে চায়, যা একবিংশ শতাব্দীতে অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

নিজের মতো দেশে ফিরতে না পারা অন্য মুক্তচিন্তার মানুষের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বহু মুক্তচিন্তার মানুষ আজ ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাসিত। যেদিন আমরা নিরাপদে দেশে ফিরে বসবাস করতে পারব, সেদিনই বোঝা যাবে দেশ সত্যিকার অর্থে সভ্য ও গণতান্ত্রিক হয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *