যুক্তরাজ্যে স্থানীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু গ্রেটার ম্যানচেস্টার মেয়র উপনির্বাচনে বিশাল জয় নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে দলটির প্রভাবশালী প্রার্থী বেভ ক্রেগ ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পেয়ে নতুন মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে রিফর্ম ইউকে ও গ্রিন পার্টির কাছে হারানো বেশ কিছু এলাকার সমর্থন পুনরুদ্ধার করে এই জয়ের মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক আধিপত্যের বড় বার্তা দিল লেবার পার্টি। বেভ ক্রেগ এর আগে ম্যানচেস্টার সিটি কাউন্সিলের সফল নেতা ছিলেন; তিনি এখন বিদায়ী মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
শুক্রবার ঘোষিত অফিশিয়াল নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গেছে, প্রথম পছন্দের ভোটে বেভ ক্রেগ ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়ে শীর্ষে ছিলেন। অন্যদিকে রিফর্ম ইউকের প্রার্থী ২১ শতাংশ এবং গ্রিন পার্টির প্রার্থী ১২ শতাংশ ভোট লাভ করেন। প্রথম পছন্দের গণনায় কোনো প্রার্থী এককভাবে ৫০ শতাংশ ভোটের সীমা স্পর্শ করতে না পারায় নিয়ম অনুযায়ী দ্বিতীয় পছন্দের ভোট গণনা করা হয়। চূড়ান্ত ফলাফলে লেবারের ভোট একলাফে বেড়ে দাঁড়ায় ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশে এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিফর্ম ইউকে পায় ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট।
জয়ের পর কো-অপ লাইভে আয়োজিত সংবর্ধনায় বেভ ক্রেগ বিভাজনমূলক রাজনীতি পরিহার করার জোর আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার সরকারের জন্য এই জয়কে এক বড় রাজনৈতিক স্বস্তি ও বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে লেবার দল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া বাম ও ডানপন্থী ভোটারদের বড় একটি অংশকে আবারও প্রধান ধারায় ফেরাতে পেরেছে দলটি।
অন্যদিকে, নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন দল রিফর্ম ইউকের জন্য এই পরাজয়কে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চলতি বছরের মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে দলটি উইগান ও টেমসাইডের মতো লেবারের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছিল, তবে মেয়র উপনির্বাচনে ভোটাররা তাদের প্রত্যাখান করেছে। এ ছাড়া অভিবাসনবিরোধী নতুন ডানপন্থী দল ‘রিস্টোর ব্রিটেন’ ৮ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে কনজারভেটিভ পার্টিকে পেছনে ফেলে মূলত রিফর্ম ইউকের ভোটেই বড় ভাগ বসিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর পদটি খালি হলে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম এই মেয়র উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দুই মিলিয়নেরও বেশি ভোটার থাকা সত্ত্বেও এই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ২৫ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক অন্য নির্বাচনের তুলনায় অনেকটাই কম। তবে সব সমীকরণ পেরিয়ে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী লন্ডনের বাইরের এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে আবারও নিজেদের লাল পতাকা উড্ডীন করল লেবার পার্টি।

