প্রধান খবর

১৩ বছরের মায়ের কোলে ৭ মাসের সন্তান

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্পর্শকাতর ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শিশু কোলে দাঁড়িয়ে থাকা এক কিশোরী নিজেই এক সন্তানের জন্মদাত্রী মা। বর্তমান অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই কিশোরীর বয়স মাত্র ১৩ বছর চার মাস এবং তার কোলজুড়ে থাকা শিশুটির বয়স সাত মাস। অবিশ্বাস্য ও উদ্বেগজনক এই ঘটনার পেছনের আইনি জটিলতা, প্রতারণা ও সামাজিক অপরাধের চিত্র এখন প্রকাশ্যে আসছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে ১৩ বছর বয়সী এই স্কুলছাত্রীর সাথে ২২ বছর বয়সী মো. শাকিল মিয়ার পরিচয় হয়। কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, তাকে ফুঁসলিয়ে একাধিকবার নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ের নাটক সাজানো হয়। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি মাত্র ১২ বছর ৪ মাস বয়সে কেরানীগঞ্জ থেকে গিয়ে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুটির জন্ম দেয় ওই কিশোরী। তবে সন্তান জন্মের কিছু দিন পর শিশুটিকে জোরপূর্বক রেখে কিশোরী মা-কে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে অভিযুক্ত শাকিলের পরিবারের বিরুদ্ধে।

পরবর্তীতে নিজের কোলের সন্তানকে ফেরত পেতে ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে দ্বারস্থ হয় ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার। লিগ্যাল এইড অফিসারের নির্দেশে ও চকবাজার থানা-পুলিশের সহায়তায় সম্প্রতি শিশুটিকে উদ্ধার করে কিশোরী মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযুক্ত শাকিল দাবি করছেন, জন্মনিবন্ধনে মেয়েটির বয়স ২০ বছর উল্লেখ ছিল এবং মেয়েটি স্বেচ্ছায় পালিয়ে এসেছিল। তবে আইনজীবীরা স্পষ্ট করেছেন, জন্মনিবন্ধন জালিয়াতি করে নোটারি এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ের নাটক সাজানো হলেও বাংলাদেশের আইনে এর কোনো আইনি ভিত্তি বা গ্রহণযোগ্যতা নেই।

আইনজীবী মৃণাল কান্তি মিত্র ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুবর্ণা সীমা জানান, বাংলাদেশে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ এবং ছেলেদের ২১ বছর। তা ছাড়া ২০১৯ সালে আইন মন্ত্রণালয় থেকে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনজীবীদের মতে, ১৬ বছরের কম বয়সী যেকোনো শিশুর সাথে সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন আইনত ধর্ষণ হিসেবে গণ্য। এই ঘটনায় কোনো আপসের সুযোগ নেই উল্লেখ করে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবার। বর্তমানে শিশুটি মায়ের কাছে থাকলেও অভিভাবকত্ব ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *