উত্তর আলজেরিয়ায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একটি যাত্রীবাহী বাস গভীর খাদে পড়ে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন যাত্রী। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ সেদ্দিক আইত মেসাউদেনে এক বিবৃতির মাধ্যমে এই হতাহতের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় উদ্ধারকারী সূত্র জানায়, শুক্রবার সেতিফ শহর থেকে রাজধানী আলজিয়ার্সের উদ্দেশে ছেড়ে আসা বাসটি গন্তব্যস্থল থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে এল কারমা এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। মুহূর্তের মধ্যে বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের গভীর খাদে পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে আলজেরিয়ার সিভিল প্রোটেকশন সংস্থা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুর্ঘটনাকবলিতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এদিকে এই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে দেশজুড়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেব্বুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট তেব্বুন বলেন, “এই দুর্ঘটনার পেছনে যাদের অবহেলা রয়েছে তারা মূলতঃ ‘সড়কের অপরাধী ও সন্ত্রাসী’।” তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রীও তাৎক্ষণিকভাবে বুমেরদেস বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন আহতদের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করেন।
আলজেরিয়ার সিভিল প্রোটেকশন সংস্থা জানিয়েছে, বাসটি ঠিক কী কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়; পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে দেশটির সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত গতি ও অসাবধানতাসহ নানা মানবিক ভুলই আলজেরিয়ায় ঘন ঘন দুর্ঘটনার মূল কারণ। এই দুর্ঘটনাটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আলজেরিয়ার অন্যতম প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

