যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীদের তীব্র প্রতিবাদ ও তোপের মুখে হোটেলে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনে চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।
ওয়াশিংটনের জর্জটাউনের ঐতিহ্যবাহী ফোর সিজনস হোটেলের সামনে ও লবিতে একদল ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারী অতর্কিত প্রবেশ করলে নিরাপত্তা বলয় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। ইসরায়েলি নেতা যে রেস্তোরাঁয় নৈশভোজ করছিলেন, বিক্ষোভকারীরা ঠিক সেখানেই পৌঁছানোর চেষ্টা চালান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সিক্রেট সার্ভিস ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন এবং আন্দোলনকারীদের ভবন থেকে বের করে দেন। এ সময় ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা ‘বিবি, তুমি লুকাতে পারো না, তুমি জাতিগত নিধন চালাচ্ছ’ বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে থাকেন।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক এবং উচ্চপর্যায়ের সফর ঘিরে ওয়াশিংটনজুড়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জারি ছিল। তবে এই ঘটনার পরপরই পুরো শহরজুড়ে রাজপথে নেমে আসেন শত শত মানুষ। হোয়াইট হাউস ও বিভিন্ন প্রশাসনিক ভবনের অভিমুখে বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে, ড্রাম বাজিয়ে ও মেগাফোনে স্লোগান দিয়ে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি ছিল-গাজায় চালানো নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কর্তৃক নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, মার্কিন সরকার যেন তা অবিলম্বে কার্যকর করে। একই সাথে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের অর্থায়ন ও কূটনৈতিক সমর্থন বন্ধ করার আহ্বান জানান তাঁরা।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীরা জানান, মার্কিন জনগণের দেওয়া করের টাকায় কোনো চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীকে সুরক্ষা দেওয়া নীতিগতভাবে মেনে নেওয়া যায় না। ‘মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধযন্ত্র বন্ধ করো’ লেখা ব্যানার হাতে নিয়ে তারা নেতানিয়াহুকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

