পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে দুটি পৃথক কয়লা খনি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৮ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। ভয়াবহ এই বিস্ফোরণ ও ধসের পর খনিগুলোতে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটার অদূরে সোরাঞ্জ নামের এক দুর্গম পার্বত্য এলাকায় প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে। সেখানে অবস্থিত খনিটির স্বত্বাধিকারী কুরবান জোগেজাই জানান, খনির অভ্যন্তরে জমে থাকা বিষাক্ত মিথেন গ্যাস থেকে এই শক্তিশালী বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়। দুর্ঘটনার সময় খনির ভেতরে মোট ৪২ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। হতাহত শ্রমিকদের সবাই পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ার শাংলা জেলা থেকে সেখানে কাজ করতে এসেছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম।
বিস্ফোরণের পরপরই বিধ্বস্ত খনিটিতে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের (পিডিএমএ) উদ্ধারকারী দল। শুক্রবার উদ্ধারকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভেতরে আটকে পড়া নিখোঁজ সব শ্রমিকের দেহ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত তাদের এই অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বিস্তারিত নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি।
একই দিনে বেলুচিস্তানের হারনাই জেলার আরেকটি কয়লা খনিতে ওপর থেকে একটি বিশালাকার পাথরের চাঁই ধসে পড়ে আরও এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের দুই প্রদেশ বেলুচিস্তান ও সিন্ধে একাধিক কয়লা খনি থাকলেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থার তীব্র ঘাটতি রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না করায় এসব খনিতে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকেও সিন্ধের থাট্টা জেলায় খনি ধসে চারজন শ্রমিক প্রাণ হারান।

