লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি ও গ্রিসে পৌঁছানোর চেষ্টা করা বাংলাদেশিদের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এই অনিয়মিত অভিবাসনের পথে মৃত্যু, নির্যাতন, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং মানব পাচারের মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটলেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপমুখী যাত্রা থামছে না।
ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সেন্ট্রাল মেডিটেরেনিয়ান রুট ব্যবহার করে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার বাংলাদেশি ইউরোপে পৌঁছেছেন। একই সময়ে বহু বাংলাদেশি লিবিয়ায় আটক হয়েছেন এবং গত ছয় বছরে প্রায় ১৫ হাজার জনকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। চলতি বছর ইতালির পাশাপাশি গ্রিসমুখী সাগরপথেও বাংলাদেশিদের সংখ্যা সর্বাধিক বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক জানিয়েছে, মানব পাচারচক্র উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে মানুষকে বিদেশে নেওয়ার নামে ভয়াবহ প্রতারণার শিকার করছে। অনেককে লিবিয়া, রাশিয়া, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে জোরপূর্বক শ্রম, সাইবার প্রতারণা, যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার কিংবা যৌন শোষণের মতো অপরাধে জড়ানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মানব পাচার প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগ, দালালচক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
আন্তর্জাতিক মানব পাচারবিরোধী দিবস উপলক্ষে সংশ্লিষ্টরা মানব পাচার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে এই অপরাধ দমনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

