জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কিউশু দ্বীপে আঘাত হানা ৭.১ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুর্যোগ কবলিত এলাকাগুলো থেকে অন্তত দেড় লাখেরও বেশি বাসিন্দাকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে ভূমিকম্পের সার্বিক হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এ সময় তিনি হতাহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাওয়া উদ্ধারকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। সানায়ে তাকাইচি বলেন, “এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন এবং উদ্ধারকর্মীরা তাদের উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। এটি মূলত সময়ের বিরুদ্ধে আমাদের এক কঠিন লড়াই।”
গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেলে কিউশু দ্বীপের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে এই শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। কেন্দ্রস্থল অগভীর হওয়ায় মূল কম্পনের পর ছোট-বড় অসংখ্য পরাঘাত (আফটারশক) অনুভূত হচ্ছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১ থেকে ৬ তীব্রতার অন্তত ৬১টি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে।
ভূমিকম্পের তীব্র প্রভাবে ওই অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হাজার হাজার বাড়িঘর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং বহু সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কুমামোটো এলাকায় একটি পদচারী সেতু ধসে পড়লেও বিকল্প সড়ক দিয়ে জরুরি যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাছাড়া কিউশু দ্বীপ থেকে শত শত মাইল দূরে অবস্থিত রাজধানী টোকিওর হানেদা বিমানবন্দরেও এর প্রভাব পড়েছে। ইতোমধ্যে অন্তত ৪০টি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল কিংবা বিলম্বিত করা হয়েছে। ফলে যাত্রীদের বিমানবন্দরমুখী হওয়ার আগে ফ্লাইটের সময়সূচি জেনে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, উৎপত্তিস্থল থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত সেন্দাই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরোপুরি সুরক্ষিত রয়েছে এবং এর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি। উপকূলীয় এলাকায় জারিকৃত সংক্ষিপ্ত সুনামি সতর্কতাও পরিস্থিতি বিবেচনায় ১ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত জাপানে অবকাঠামোগত সচেতনতা থাকলেও, এবারের অগভীর ভূমিকম্প বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

