নরসিংদীতে টানা গ্যাস সংকট ও দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। এক সপ্তাহ ধরে চলমান এ সংকটে গৃহস্থালি, পরিবহন এবং শিল্প খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে বাসাবাড়িতে রান্না ব্যাহত হচ্ছে, আর সিএনজি স্টেশনগুলোতে দেখা দিয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি।
জেলার বিভিন্ন শিল্পকারখানায় প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিল্প মালিকদের দাবি, উৎপাদন কমে যাওয়ায় সময়মতো ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে গ্যাস সংকটের প্রভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প হিসেবে বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করায় লোডশেডিং আরও বেড়েছে।
পরিবহন খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গ্যাসের অভাবে অনেক সিএনজিচালিত যানবাহন দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করছে, ফলে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কমে গেছে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেলার চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি মেরামত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এদিকে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক ও লোডশেডিং কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিল্পসংশ্লিষ্টরা।

