বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়ায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় উপজেলায় ১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা এ সময়ে দেশের সর্বোচ্চ। টানা বর্ষণ ও জোয়ারের কারণে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং উপকূলজুড়ে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
হাতিয়া আবহাওয়া অফিসের তথ্য সহকারী সোহাগ বিশ্বাস মঙ্গলবার সকালে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড হওয়া ১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত দেশের সর্বোচ্চ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা, গ্রামীণ সড়ক, বাজার ও বসতবাড়ির আঙিনায় পানি জমে গেছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কিছু এলাকায় কৃষিজমিও পানিতে তলিয়ে গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে আরও কয়েক দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত এবং দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল ইকবাল জানান, প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়া এবং নদী ও সাগরে চলাচলে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান।

