ফ্রান্সে চলমান দাবানলের ভয়াবহতার মধ্যে অসচেতনতা, চরম অবহেলা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বনে আগুন লাগানোর অভিযোগে মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে ১৬২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইউরোপজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তৈরি হওয়া তীব্র তাপদাহ ও খরা পরিস্থিতির মধ্যে মানুষের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেবাস্টিয়েন লেকোর্নু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ৬ জুলাই থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসব ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পরিবেশ ও জনজীবনের জন্য চরম হুমকি সৃষ্টি করা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দোষীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাদের কঠোর বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকেই ফ্রান্সে দাবানলের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বছর শুরু হওয়া থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে দেশজুড়ে রেকর্ড ১৩ হাজার ৫৬৬টি ছোট-বড় দাবানলের ঘটনা তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৫ হেক্টর বনভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে, যা দেশটির ইতিহাসে দাবানলে ক্ষয়ক্ষতির সর্বকালের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে ভয়াবহ দাবানলে ৭২ হাজার হেক্টর বন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পরিসংখ্যান অনুযায়ী ফ্রান্সে সংঘটিত প্রতি ১০টি দাবানলের ৯টিই প্রধানত মানবসৃষ্ট। জ্বলন্ত সিগারেটের অংশ অসাবধানতাবশত বনে ফেলে দেওয়া, বনাঞ্চলের কাছে ঝুকিপূর্ণভাবে বারবিকিউ করা এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা না মেনে নির্মাণকাজ চালানোর মতো অসচেতন কাজের কারণেই ভয়াবহ এ দুর্যোগ তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও কঠোর বার্তা দিয়ে জানান, জাতীয় পরিবেশ ও বনসম্পদের ক্ষতিসাধন করতে কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে দাবানল সৃষ্টি করে, তবে ফরাসি আইনে তার অপরাধ প্রমাণিত হলে তাকে কমপক্ষে ১৫ বছরের দীর্ঘ কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

