প্রধান খবর

বিয়ের প্রলোভনে ৪ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ: ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

রাজধানীর আদাবর এলাকায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক তরুণীকে চার দিন ধরে ফ্ল্যাটে আটকে রেখে অনবরত ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে নির্মমভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় প্রেমিক পেশাদার ফটোগ্রাফার নামীন আশরাফ মনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এর বিচারক মো. মনিরুজ্জামানের আদালতে ভুক্তভোগীর বড় বোন রাজিয়া সুলতানা বাদী হয়ে এই পিটিশন মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার শুনানি ও বাদীর বিস্তারিত জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ বিচারক অভিযোগটি সরাসরি আমলে নেন। তিনি পুরো ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।

মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে ফটোগ্রাফার নামীম আশরাফ মনিকে (৩৭)। অন্য দুই অভিযুক্ত আসামি হলেন নামীমের বাবা আশরাফউদ্দিন ও মা শাহনাজ বেগম।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, নিহত তরুণী সাদিয়া ইয়াসফিয়া (২৪) পেশায় একজন মেকআপ আর্টিস্ট ছিলেন। ২০২৪ সালে একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রজেক্টের শুটিংয়ে কাজ করতে গিয়ে ফটোগ্রাফার নামীমের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। নিয়মিত একসঙ্গে কাজ করার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। উভয় পরিবারই তাদের সম্পর্কের বিষয়ে অবগত ছিল।

পরবর্তীতে গত ৬ জুন সাদিয়ার পরিবারের সদস্যরা বিয়ের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব নিয়ে নামীমের গেন্ডারিয়ার ঢালকানগরের বাসায় যান। কিন্তু নামীমের বাবা-মা অত্যন্ত কঠোরভাবে সেই বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং সাদিয়াকে কোনোভাবেই তাদের ঘরের বউ করবেন না বলে হুমকি দেন।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, পরিবারের বিরোধিতার মুখে গত ১০ জুন রাতে নামীম কৌশলে সাদিয়াকে ডেকে এনে আদাবরের শেখেরটেকের ১২ নম্বর রোডের একটি বহুতল ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত তার নিজস্ব ফটো স্টুডিও ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। সেখানে সাদিয়াকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তিনি বান্ধবীর বাসায় অবস্থান করছেন বলে নিজ পরিবারকে জানাতে বাধ্য করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১০ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ওই ফটো স্টুডিওর ভেতরেই সাদিয়াকে টানা চার দিন অবৈধভাবে আটকে রেখে অনবরত শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে ১৪ জুন তাকে হত্যা করে আসামি নামীম ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আত্মহত্যা বলে প্রচার করতে থাকে। তবে পুলিশের তৈরি করা সুরতহাল প্রতিবেদনেও নিহতের শরীরে একাধিক আঘাত ও ধর্ষণের সুস্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে বলে জানান মামলার বাদী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *