দক্ষিণ আমেরিকার দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম অবনতি ঘটেছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে ‘চোর’ ও ‘সাজাপ্রাপ্ত আসামি’ বলে কটূক্তি করেছেন আর্জেন্টিনার ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। এই নজিরবিহীন মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বুয়েনস আয়ার্স থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে অবিলম্বে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ব্রাজিল সরকার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রাজিলের সাও পাওলো শহরে ডানপন্থি রাজনৈতিক দল লিবারেল পার্টির এক সমাবেশে অংশ নেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। সেখানে তিনি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারোর ছেলে ও আগামীর প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণা চালান। উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মিলেই ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে পরোক্ষভাবে ‘চোর’ ও ‘দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী’ বলে আক্রমণ করেন।
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের এই ধরনের অশালীন বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ব্রাসিলিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, অন্য দেশের প্রধানের ব্রাজিলের মাটিতে দাঁড়িয়ে দেশটির সরকার, সার্বভৌমত্ব, বিচারব্যবস্থা ও জনগণকে নিয়ে এমন অবমাননাকর মন্তব্য করা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েনস আয়ার্সে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত হুলিও বিতেলিকে অবিলম্বে দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কোনো বহিরাগত দেশের হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। কোনো দেশের হুকুম বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ব্রাজিল পরিচালিত হবে বলেও তিনি কঠোর হুঙ্কার দেন।
উল্লেখ্য, ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বিতর্কিত দুর্নীতি ও ঘুষের মামলায় ২০১৮ সালে ১২ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। প্রায় ১৮ মাস কারাভোগ করার পর ২০২১ সালে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত সাজা বাতিল ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থি নেতা জেইর বলসোনারোকে পরাজিত করে বিপুল জনমতে পুনরায় ব্রাজিলের ক্ষমতায় আসীন হন লুলা।

