ইতালির জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হওয়ার দৌড়ে একদম শেষ ধাপে থেকেও বিতর্কের মুখে পড়েছেন ২০০৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি তারকা আন্দ্রেয়া পিরলো। রাশিয়ার একটি স্পোর্টস বেটিং কোম্পানির সঙ্গে তাঁর বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসার পর ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (FIGC) তাঁর নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতালির ক্রীড়া ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে অবশেষে নীরবতা ভেঙে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন পিরলো।
ইতালি জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে কার্লো আনচেলত্তি ও পেপ গার্দিওলা অপারগতা প্রকাশ করার পর পিরলোককে প্রধান কোচ হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে পিরলো যে রাশিয়ার বেটিং কোম্পানি ‘ফনবেট’-এর বৈশ্বিক অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন, সেই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে ওঠে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক আবেগঘন বিবৃতিতে পিরলো জানান, তিনি ভারাক্রান্ত হৃদয়ে গত কয়েকদিনের বিতর্ক প্রত্যক্ষ করেছেন। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাবেক এই ইতালিয়ান তারকা বলেন, খেলোয়াড় কিংবা কোচ হিসেবে পেশাগত জীবনে তিনি সবসময়ই সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও চুক্তিকে সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে কোচিং করানোর সময় উক্ত বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর চুক্তিটি সম্পূর্ণরূপে বাণিজ্যিক ও খেলাধুলাসংক্রান্ত ছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, একে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া বা ভুল উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
বিবৃতিতে পিরলো তাঁকে ইতালির কোচ পদে প্রস্তাব করার জন্য দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পাওলো মালদিনি ও লিওনার্দোর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে খেলাধুলার একটি সিদ্ধান্তকে এভাবে অহেতুক জনসমক্ষে বিতর্কের বিষয়ে পরিণত করায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
ইতালির কোচ পদে শেষ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পাবেন কি না তা নিশ্চিত না করলেও পিরলো স্পষ্ট জানিয়েছেন-ইতালির প্রতি তাঁর ভালোবাসা কোনো নির্দিষ্ট পদের ওপর নির্ভর করে না; এটি তাঁর অস্তিত্ব ও ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অন্যদিকে, বিতর্ক জটিল রূপ নেওয়ায় ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন অন্য কোনো বিকল্প কোচের সন্ধানে নামতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।

