দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও দ্রুত বিচার আদালত (ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট) গঠনের বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও বার্তার পর অনশন প্রত্যাহার করেছেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। দীর্ঘ ২৭ দিন পর বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালের শয্যায় বসেই তিনি অনশন ভঙ্গ করেন।
অনশন ভঙের সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জৈন আংমো এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহ। অনশন প্রত্যাহারের পর উপস্থিত সকলে তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মান জানান। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে সোনম ওয়াংচুকের দ্রুত সুস্থতা এবং স্বাভাবিক ওজনে ফিরে আসা কামনা করেছেন।
সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে গভীর কৃতজ্ঞতা ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সোনম ওয়াংচুক। তিনি জানান, দেশে যেন কোনোভাবেই সহিংসতা না ছড়ায়, সেই বিষয়টি মাথায় রেখে এবং কিছু নির্দিষ্ট শর্তের ওপর সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরেই তিনি অনশন তোলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই শর্তগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে শীঘ্রই একটি আলাদা ভিডিও বার্তা প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষকে যেকোনো ধরনের সহিংসতা থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার আকুল অনুরোধ জানান এই সমাজকর্মী।
সোনম ওয়াংচুক শারীরিক অনশন প্রত্যাহার করলেও এই প্রতিবাদ এখনই একেবারে থামছে না। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক ওয়াংচুকের এই ত্যাগকে শ্রদ্ধা জানিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে তাঁদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি যথারীতি অব্যাহত থাকবে।

