প্রধান খবর

সংসদ সদস্যদের কাছে ব্যাংকের পাওনা ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা: রুমিন ফারহানা

দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং বিপুল পরিমাণ ঋণখেলাপির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ প্রকাশ করা হয়েছে। জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বর্তমান সংসদ সদস্যদের কাছে ব্যাংকগুলোর বিশাল অংকের বকেয়া বা পাওনার তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়।

সংসদে বাজেট আলোচনার সময় বক্তব্য প্রদানকালে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা জানান, দেশের বর্তমান সংসদ সদস্যদের কাছে ব্যাংকগুলোর মোট পাওনার পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। আইনপ্রণেতাদের নিজেদের ব্যাংক ঋণ ও খেলাপি সংস্কৃতির এমন চিত্র সামনে আসার পর দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতের নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বক্তব্যে ব্যাংক খাতের নাজুক পরিস্থিতি এবং ঋণখেলাপিদের দাপটের কঠোর সমালোচনা করা হয়। একজন আইনপ্রণেতা হিসেবে যাদের দেশের আর্থিক খাত শৃঙ্খলায় আইন প্রণয়নের দায়িত্ব নেওয়ার কথা, তাদের কাছেই যদি ব্যাংকের এমন বিপুল অর্থ আটকে থাকে, তবে সাধারণ আমানতকারীদের নিরাপত্তা এবং ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়ে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাত বড় ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। একদিকে বিপুল পরিমাণ ঋণখেলাপি, অন্যদিকে অনিয়ম ও জবাবদিহির অভাব এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। এ নাজুক অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কঠোর আইন প্রয়োগ, কার্যকর সংস্কার ও সর্বোচ্চ জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি বলে তিনি জোর দাবি জানান।

নির্বাচনের আগে সামান্য কিছু অর্থ জমা দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল করার যে প্রচলিত সংস্কৃতি রয়েছে, সে বিষয়েও আলোকপাত করা হয়। এর ফলে ঋণখেলাপিরা সাময়িকভাবে আইনি ছাড় পেলেও ব্যাংক খাতের মূল সংকট থেকেই যাচ্ছে।

সংসদে উপস্থাপিত এ তথ্যের পর সংসদ সদস্যদের বিপুল অংকের ব্যাংক ঋণ এবং আর্থিক খাতের সুশাসনের বিষয়টি রাজনীতি ও অর্থনীতি অঙ্গনে নতুন করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *