রাজধানীর মিরপুরে সাদা বস্তায় মুড়ে এক ব্যক্তিকে রহস্যজনকভাবে টেনে নেওয়ার একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ও অপহরণ আতঙ্ক তৈরি হয়। তবে বিষয়টির প্রাথমিক তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে মিরপুর বিভাগ পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনাটিতে জোরপূর্বক অপহরণের কোনো প্রমাণ বা আলামত পাওয়া যায়নি।
মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভিডিওটি ছড়ানোর পরপরই সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অনুসন্ধানে নামে পুলিশ। ফুটেজে দেখা গেছে, ভিডিওর ব্যক্তিটি নিখোঁজ হওয়ার আগে নিজেই স্বেচ্ছায় বস্তা থেকে বের হয়ে এসেছেন এবং স্বাভাবিকভাবে হেঁটে রিকশায় চড়ে স্থান ত্যাগ করেছেন।
তদন্তে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে ‘হাসপাতাল প্রকল্প ব্যবস্থাপক’ অপহরণ বলা হলেও ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম নজরুল ইসলাম (৫০)। তিনি প্রকৃতপক্ষে পল্লবীর ১১ নম্বর এলাকায় অবস্থিত ‘দি স্যালভেশন আর্মি’র যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ ক্লিনিকে বিগত ১৫-১৬ বছর ধরে নাইট গার্ড হিসেবে কর্মরত। গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে নৈশ ডিউটিতে যোগ দেওয়ার পর পরদিন ভোরে তিনি আকস্মিকভাবে নিখোঁজ হন।
সিসিটিভি ফুটেজের তথ্য অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি একটি প্লাস্টিকের বস্তায় নজরুলকে ক্লিনিকের গেটে রেখে যায়। ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে নজরুল নিজ হাতে বস্তা খুলে বের হন, গেটের সামনে কিছু সময় অবস্থান করেন এবং পরবর্তীতে এক ব্যক্তির সঙ্গে রিকশায় চড়ে চলে যান। স্বজনদের সূত্রে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, নজরুল সম্প্রতি ব্যাংক থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। পারিবারিক কোনো জটিলতার কারণে পরিবারের অগোচরে তিনি আত্মগোপনে গিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ঠিক কী উদ্দেশ্যে তাকে বস্তায় পুরে আনা হয়েছিল এবং তিনি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, তা উদ্ঘাটনে পুলিশি অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে।

