দেশজুড়ে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে রাস্তায় নেমেছেন লাখ লাখ শিক্ষার্থী। একের পর এক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত মুখ খুলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় গভীর রাতে এক ভিডিও বার্তা দিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, এই ধরণের অপরাধ দমনে সরকার এবার অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ওই ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধ কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এটি লাখ লাখ শিক্ষার্থী এবং তাদের স্বপ্ন দেখা পরিবারগুলোর জন্য চরম কষ্ট ও দুশ্চিন্তার কারণ। তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে সরকার বেশ কিছু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অনেক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবারে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে আরও বড় ও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল যেন কোনো শিক্ষার্থীর অন্তত একটি বছরও নষ্ট না হয়। সে কারণেই সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে আমরা দ্রুত ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি।”
এদিকে, প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একই দিনে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।
প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তায় ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের বিষয়টি উঠে আসে। তিনি বলেন, বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে প্রশাসন এর অনুমোদন নিশ্চিত করেছে। বিষয়টি নিয়ে আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার পর একটি শক্তিশালী বিলে রূপ দেওয়া হবে। এরপর যত দ্রুত সম্ভব পার্লামেন্টে বিলটি পাস করার চেষ্টা চালানো হবে বলে জানান তিনি।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে সরকারপ্রধান জানান, দোষীরা পার পাবে না এবং শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

