প্রধান খবর

পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য ও বহুমাত্রিক সহযোগিতা জোরদারে রাষ্ট্রপতির আহ্বান

ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং বিমান যোগাযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই আহ্বান জানান। সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের হাইকমিশনার তাঁর দেশের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি এই আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং একই সঙ্গে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতিকেও সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের তৈরি পোশাক এবং কটন ইয়ার্নসহ বিভিন্ন পণ্যের বাংলাদেশে ভালো চাহিদা রয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশের উন্নতমানের সিরামিক, পান, কৃষিপণ্য ও ওষুধ পাকিস্তানে রপ্তানির প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। বাণিজ্যকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করতে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের ওপর জোর দেন তিনি। পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, আগামী অক্টোবরে ঢাকায় পাকিস্তানি পণ্যের একক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। একই সাথে তিনি পাকিস্তানেও বাংলাদেশের পণ্যের প্রদর্শনীর আহ্বান জানান এবং ফুটবলসহ ক্রীড়া সামগ্রী উৎপাদনে যৌথ বিনিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

সংযোগ ও সফর প্রসারের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয় এই বৈঠকে। ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, এটি ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা পর্যটন ও দুই দেশের জনগণের সম্পর্কের গতি বাড়িয়েছে। এই ইতিবাচক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিমানের ফ্লাইট সংখ্যা আরও বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি। এছাড়া, বাংলাদেশে উৎপাদিত চায়ের ভূয়সী প্রশংসা করে পাকিস্তানের বাজারে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে আরও বেশি চা আমদানির আগ্রহ দেখায় পাকিস্তান।

সাক্ষাৎকালে বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে বহুমাত্রিক রূপ দেওয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিরক্ষা ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ বিনিময় এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর তাগিদ দেন রাষ্ট্রপতি। পাকিস্তানের হাইকমিশনার তাঁর দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করলে রাষ্ট্রপতি তাঁকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন। এই সাক্ষাতের মাধ্যমে বাণিজ্য, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে দু দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *