সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া দুর্নীতির মামলার আসামি ও সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় গতি এসেছে। তবে তাকে প্রত্যর্পণের আগে মামলার নথিসহ কয়েকটি স্পর্শকাতর বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে দেশটির পুলিশ।
সংযুক্ত আরব আমিরাত পুলিশের পাঠানো চিঠির জবাব ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করার কাজ জোরকদমে চলছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও ব্যাখ্যা দুবাই পুলিশের কাছে পাঠানো হবে।
এর আগে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের পর বাংলাদেশ সরকার ও দুদকের পক্ষ থেকে দুবাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং তাকে প্রত্যর্পণের প্রাথমিক আবেদন জানানো হয়। এর জবাবে দুবাই পুলিশ মামলার বিস্তারিত নথিসহ কিছু আইনি বিষয়ের স্পষ্টীকরণ চেয়ে চিঠি পাঠায়। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, দুবাই পুলিশ বেনজীরকে হস্তান্তরে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে। তবে দুদেশের মধ্যে সরাসরি বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় আন্তর্জাতিক কোন আইনি কাঠামো ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে ফেরত পাঠানো হবে, মূলত সে বিষয়েই ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাবেক বিতর্কিত এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলার ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিশ’ জারি করা হয়। সেই রেড নোটিশের সূত্র ধরেই চলতি বছরের ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে। পরবর্তী আইনগত ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা চালাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

