মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে জর্ডানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে আকস্মিক ও ভয়াবহ ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়ছে ইরান। এই অতর্কিত হামলা প্রতিহত করার সময় অন্তত দুজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই প্রাণঘাতী হামলার পর থেকে এখনো এক সেনাসদস্য নিখোঁজ রয়েছেন, যার সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর যৌথভাবে শুক্রবারের এই ভয়াবহ হামলার খবরটি নিশ্চিত করেছে। সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার সময় আরও চার মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছিলেন। তাদের তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে জর্ডানের একটি স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরিস্থিতি আশঙ্কামুক্ত হওয়ায় ইতিমধ্যেই তাদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হামলায় সামান্য আঘাত পাওয়া অন্য সেনাসদস্যদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আবারও নিজ নিজ দায়িত্ব ও ডিউটিতে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে সামরিক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। নিহতদের পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেন্টকম এখনই তাদের নাম বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি; নিকটাত্মীয়দের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার ২৪ ঘণ্টা পর নিহত সেনাদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে পাল্টা ও প্রতিরোধ হামলায় মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সূত্রগুলোর হিসাব অনুযায়ী, এই অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে ইরাকের আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী দুটি মার্কিন বিমানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ছয়জন এবং কুয়েতের একটি সামরিক কমান্ড পোস্টে ইরানের ড্রোন হামলায় আরও ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন।
চলতি মাসের শুরুর দিকেও আরব সাগরে এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মার্কিন নৌবাহিনীর একজন পাইলট মারা যান। সব মিলিয়ে ইরানে সামরিক আগ্রাসন ও অভিযান চালাতে গিয়ে এ পর্যন্ত চার শতাধিক মার্কিন সেনাসদস্য বিভিন্ন মাত্রায় আহত হয়েছেন বলে সামরিক বাহিনীর নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। জর্ডানের বিমানঘাঁটিতে এই নতুন হামলার পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

