প্রধান খবর

যে শহরে চিরনিদ্রায় শায়িত খামেনি , সেই মাশহাদেই যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন প্রক্রিয়া চলাকালীন দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পবিত্র শহর মাশহাদে ভয়াবহ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই আকস্মিক ও কৌশলগত হামলায় রাজধানী তেহরানের সঙ্গে মাশহাদের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সর্বোচ্চ নেতার বিদায়লগ্নে পবিত্র এই শহরে যখন লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটেছে, ঠিক তখনই এই হামলা ইরানজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী মাশহাদগামী রেলপথকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। হামলায় এই রুটের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতু সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। দেশটির ইসলামিক রিপাবলিক রেলওয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তেহরান এবং মাশহাদের মধ্যকার এই রেলপথটি ইরানের সবচেয়ে ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ রুট। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় জরুরি ভিত্তিতে এই রুটটি মেরামতের চেষ্টা চলছে, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনায় যোগাযোগ স্বাভাবিক হতে বেশ সময় লাগতে পারে।

এই বিধ্বংসী হামলার ঠিক আগের দিন, বুধবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে লক্ষ্য করে এক কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছিলেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “গত রাতে আমরা ইরানে খুব কঠোরভাবে হামলা চালিয়েছি, খুবই কঠোরভাবে। সম্ভবত আজ রাতেও তাদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।”

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য হুংকারের পরপরই মাশহাদসহ ইরানের বিভিন্ন বেসামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। ওয়াশিংটনের দাবি, এর আগে ইরানকে একাধিকবার সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও তারা নিজেদের আচরণ সংশোধন করেনি; যার ফলেই এই চরম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে খামেনির দাফন অনুষ্ঠানের মতো একটি আবেগঘন ও সংবেদনশীল সময়ে এই হামলাকে ইরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *