ভেনেজুয়েলায় গত ২৪ জুন আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৩৫ জনে। সোমবার (৬ জুলাই) প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানের বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি এই হৃদয়বিদারক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ও এর প্রভাবে রাজধানী কারাকাসের উত্তরে অবস্থিত উপকূলীয় লা গুয়াইরা এলাকায় সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। ভূমিকম্পের তীব্রতায় বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বহুতল ভবন থেকে শুরু করে সাধারণ ঘরবাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধসে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ধসে পড়া কংক্রিটের স্তূপের নিচে এখনও হাজার হাজার মানুষ চাপা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সর্বশেষ সরকারি বুলেটিন অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত ১৬ হাজার ৭৪০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের চিকিৎসা দিতে স্থানীয় হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে।
ভেনেজুয়েলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য মতে, ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি শহরের আশেপাশের এলাকাগুলোতে অন্তত ৫৮ হাজার ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে প্রায় ১৭ হাজার পরিবার রাতারাতি গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের ১০ দিন পার হওয়ায় আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো এখন তাদের উদ্ধার অভিযান গুটিয়ে নিতে শুরু করেছে। তবে এই চরম হতাশার মাঝেও গত কয়েক দিনে কিছু কিছু ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অলৌকিকভাবে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে।
বিপর্যস্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও জরুরি সেবার জন্য ২০০ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রাথমিক তহবিল ঘোষণা করেছেন। সরকার নিখোঁজ নাগরিকদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও প্রকাশ না করলেও, জাতিসংঘের আশঙ্কা—ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ মানুষের এই সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজারে পৌঁছাতে পারে।
ভূমিকম্পের রেশ কাটিয়ে প্রাণে বেঁচে যাওয়া লাখো মানুষ এখন গৃহহীন অবস্থায় খোলা আকাশের নিচে, পাবলিক পার্কে এবং গাড়ি পার্কিং এলাকায় গড়ে ওঠা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। উদ্ধার অভিযানের প্রাথমিক ধাপ শেষ হওয়ায় এখন অলৌকিক আশার চেয়ে মরদেহ উদ্ধার, দ্রুত দাফনের ব্যবস্থা এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোও ভেনেজুয়েলা ছাড়তে শুরু করায় স্বজনদের শেষ বিদায়টুকু জানানোর আশায় অনেক পরিবার এখনও নিজ দায়িত্বেই প্রিয়জনের মরদেহ খুঁজে ফিরছেন।

