খুলনার একটি মাদরাসায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুশিক্ষার্থীকে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে মাদরাসার মুহতামিম (প্রধান শিক্ষক) মো. আসলাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রবিবার (৫ জুলাই) রাতে নগরীর আড়ংঘাটা থানার শলুয়া এলাকার ‘হামিউস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদরাসা’ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সোমবার (৬ 六) তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
নির্যাতিত শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এক দিনমজুর বাবা তার সন্তানকে হাফেজ বানানোর এক বুক স্বপ্ন নিয়ে ওই মাদরাসায় ভর্তি করিয়েছিলেন। কিন্তু পবিত্র কোরআন শিক্ষার পরিবর্তে মাদরাসার মুহতামিম আসলাম উদ্দিন শিশুটিকে দিয়ে নিজের ব্যক্তিগত কাজ করানো, গরু-ছাগল চরানোসহ নানা ধরনের কায়িক শ্রমে বাধ্য করতেন। অবুঝ শিশুটি এসব কঠিন কাজে আপত্তি জানালে তার ওপর নেমে আসত নির্মম শারীরিক নির্যাতন ও নানাবিধ শাস্তি।
শিশুটির মা রত্না বেগম জানান, শিক্ষকের এই অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তার ছেলে প্রায়ই মাদরাসা থেকে পালিয়ে বাড়ি চলে আসত। গত রবিবার বিকেলে ছেলেকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে মাদরাসায় যান পরিবারের সদস্যরা। সেখানে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে একপর্যায়ে মাদরাসার একটি অন্ধকার কক্ষে শিশুটিকে পায়ে লোহার শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান তারা।
এই পৈশাচিক ঘটনাটি মুহূর্তের মধ্যে জানাজানি হলে স্থানীয় জনতা ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে আড়ংঘাটা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে শিকলমুক্ত করে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত মুহতামিমকে হাতেনাতে আটক করে। উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রবিবার রাতেই নির্যাতিত শিশুটির মা বাদী হয়ে আড়ংঘাটা থানায় শিশু আইন, ২০১৩-এর ৭০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় মো. আসলাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হালিমুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটিকে অত্যন্ত জঘন্যভাবে শিকলবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। অপরাধের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত শিক্ষককে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হবে।

