প্রধান খবর

তেহরানের ঐতিহাসিক ফ্রিডম স্কয়ারে নেওয়া হচ্ছে খামেনির কফিন: লাখো মানুষের শেষ শ্রদ্ধা

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ সোমবার (৬ জুলাই) তাঁর মরদেহের কফিনটি সর্বসাধারণের শেষ শ্রদ্ধার জন্য রাজধানীর ঐতিহাসিক ফ্রিডম স্কয়ারে (আজাদি স্কয়ার) নেওয়া হবে।

বর্তমানে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদের অভ্যন্তরে লাখ লাখ শোকার্ত ইরানি সাবেক এই সর্বোচ্চ নেতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের কফিন ঘিরে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজধানী তেহরানে সমবেত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন দীর্ঘ চার দশক ধরে ইরানকে নেতৃত্ব দেওয়া এই শীর্ষ নেতা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের কাছে এই শোকানুষ্ঠানগুলো কেবল একটি বিদায় আয়োজন নয়, বরং এর চেয়েও গভীর কিছু। চার দশক ধরে দেশ শাসন করা নেতার হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর প্রতি জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা ও বিশাল জনসমাগমের মাধ্যমে ইরান বিশ্ববাসীকে একটি বিশেষ বার্তা দিতে চাচ্ছে। সেটি হলো—সর্বোচ্চ নেতা নিহত হলেও তাঁর গড়ে তোলা রাষ্ট্রীয় ও সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে এবং কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী দিনগুলোতেও দেশজুড়ে খামেনির এই শোকযাত্রা ও জনসমাগম অব্যাহত থাকবে। আজ ফ্রিডম স্কয়ারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আগামী ৭ জুলাই তাঁর মরদেহ শিয়া সম্প্রদায়ের পবিত্র শহর কোমে নেওয়া হবে। এরপর ৮ জুলাই কফিন নিয়ে যাওয়া হবে ইরাকের ঐতিহাসিক কারবালা ও নজফ শহরে। সবশেষে আগামী ৯ জুলাই খামেনির মরদেহ তাঁর জন্মস্থান ইরানের পবিত্র মাশহাদ শহরে নেওয়া হবে এবং সেখানেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হবে।

১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্মগ্রহণ করা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের প্রাক্কালে রাজতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান রূপকার ছিলেন। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে তিনি শীর্ষ নেতার দায়িত্ব নেন। খোমেনি যেখানে বিপ্লবের আদর্শিক ভিত্তি দিয়েছিলেন,

সেখানে খামেনি বিপ্লব-পরবর্তী সামরিক, আধাসামরিক ও শক্তিশালী উন্নত প্রতিরক্ষা কৌশল গড়ে তোলেন।
খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি। নতুন এই শাসকের মেয়াদের শুরুতেই দেশটিতে এত বড় রাষ্ট্রীয় শোকের আয়োজন চলছে, যদিও দায়িত্ব গ্রহণের পর মোজতবা খামেনি এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *